মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬
বাউফলে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি
হোম » পটুয়াখালী » বাউফলে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি
![]()
কাজল বরণ দাস, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর বাউফলে সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন, আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির বিরুদ্ধে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নাম না থাকা কালাইয়া ইউনিয়নে অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দাকে ডিলার নিয়োগ, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে ডিলারশিপ দেওয়া এবং গুদাম, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও নির্ধারিত শর্ত উপেক্ষা করে সুপারিশ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তের দাবিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ জেলা প্রশাসক সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এতে বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়ন বাদে বাকি ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার হওয়ার জন্য ১০৮ জন আবেদন করেন। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে জেলা কমিটি ক্রমানুসারে তিনজনের নাম সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। গত ১১ অক্টোবর সার ডিলারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি জেলা কমিটির প্রথম ক্রমের সুপারিশ অনুযায়ী অস্থায়ী অনুমোদন দিয়ে তালিকা প্রকাশ করে।
তালিকায় কালাইয়া ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে অনুমোদন পান ধুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জলিল হাওলাদার। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি কালাইয়া ইউনিয়নের জন্য আবেদন করেননি। অথচ জেলা কমিটি তাঁর নাম সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। কালাইয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিয়নটির নাম না থাকায় কেউ আবেদন করতে পারেননি। তারপরও প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরের ধুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, কালাইয়ায় জলিল হাওলাদারের কোনো গুদাম বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই। সেখানে তিনি কীভাবে ডিলারশিপ পরিচালনা করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
কালাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কালাইয়া ইউনিয়নের নাম না থাকায় আমরা অনেকে আবেদন করতে পারিনি। তারপরও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ঘুষের বিনিময়ে ধুলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জলিল হাওলাদারের নাম সুপারিশ করেছে জেলা কমিটি।’
তবে জলিল হাওলাদার বলেন, ‘কালাইয়া ইউনিয়নের জন্য আবেদন করিনি, তা ঠিক। তবে জেলা কমিটি চাইলে দিতে পারেন বিধায় তাঁরা দিয়েছেন।’
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে গত ১২ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালা লঙ্ঘন করে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাছিপাড়া ইউনিয়নে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আবু রায়হানকে ডিলারশিপ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দুই ভাই মো. শামীম ও কাওসার হোসেনেরও সার ডিলার হিসেবে অনুমোদন রয়েছে।
ডিলারশিপ বাতিল এবং আবেদন করেও বঞ্চিত রাশেদুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়, জেলা ও উপজেলা কমিটির কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। উচ্চ আদালতের আইনজীবী আমেনা বেগমের মাধ্যমে নোটিশটি পাঠান রাশেদুল ইসলাম। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু রায়হান কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ ছাড়া নির্ধারিত শর্ত, গুদামের পর্যাপ্ততা ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করার অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগা ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন নাজমা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আগে কখনো সার ব্যবসা করেননি এবং তাঁর কোনো গুদামও নেই। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে মদনপুরা ইউনিয়নে রাহাত হোসেন, ধুলিয়া ইউনিয়নে জলিল চৌকিদার, বাউফল সদর ইউনিয়নে জামাল হোসেন, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে জসিম উদ্দিন ও কনকদিয়া ইউনিয়নে নিজামের বিরুদ্ধে।
তবে ডিলারশিপ পাওয়া ব্যক্তিদের দাবি, তাঁরা যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করেছেন এবং যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুমোদন পেয়েছেন।
বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব মো. মিলন বলেন, জেলা কমিটির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে ১০৮ জন আবেদন করেন। পরে জেলার নির্ধারিত ছকে আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন জেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী প্রক্রিয়া জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘নীতিমালা মেনেই নাম সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। কেন্দ্রীয় কমিটি তা অনুমোদন দিয়েছেন। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি চৌধুরী আশরাফুল করিমের সরকারি ফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১২:১৪:২৬ ● ২৭ বার পঠিত
