রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনায় সারসংকট, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

হোম » কৃষি » বরগুনায় সারসংকট, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬


 

প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনায় আমনসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে সময়মতো সার দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে নতুন সার ডিলার নিয়োগের সুপারিশে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, যোগ্যতা যাচাইয়ে গাফিলতি ও গুদামঘরের মালিকের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তালতলী ও আমতলী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের সুপারিশ নিয়ে এসব অভিযোগের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় বাজারে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরেও সার না পেয়ে কেউ কেউ দূরের বাজারে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সার সরবরাহ ও মজুত তদারকির পাশাপাশি নতুন ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামের কৃষক মো. নিজাম উদ্দিন সাগরকন্যাকে বলেন, ‘জমিতে সার দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় চলছে। এখন সার না পেলে পরে কিনে আনলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। এক দোকানে না পেয়ে অন্য দোকানে যেতে হচ্ছে। দূরের বাজার থেকে সার আনতে গেলে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়।’

 

বরগুনা সদরের কৃষক আবদুল কাদের মোল্লা ও সেলিম মল্লিকের অভিযোগ, সংকটের সময় কোথায় কত সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, ডিলারদের কাছে কতটুকু মজুত রয়েছে এবং কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা কার্যকরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, কৃষকের চাহিদার সময় সার নিশ্চিত করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে।

 

তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগের সুপারিশ নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং-সংশ্লিষ্ট শাখার সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ইউনিয়নের বায়েজিদ নামের এক ব্যক্তি।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, শারিকখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরগাছা গ্রামের মো. নেছার উদ্দিনের বাবা মো. ফারুক খান ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। অভিযোগকারীর দাবি, একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ফারুক খানের নামে খুচরা সার বিক্রেতার নিবন্ধন রয়েছে। নিবন্ধনের আইডি নম্বর ৪ এবং ইস্যুর তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীর প্রশ্ন, বাবার নামে খুচরা সার বিক্রেতার নিবন্ধন থাকা সত্ত্বেও ছেলে নেছার উদ্দিনকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করা হয়েছিল কি না।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নেছার উদ্দিন একজন শিক্ষার্থী এবং তাঁর নিজস্ব সার সংরক্ষণের গুদাম নেই। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, ডিলার হওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সুপারিশ করা হয়নি।

 

ডিলার নিয়োগের সুপারিশের তালিকায় গুদামঘরের মালিক স্বপন চন্দ্র শীলের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শারিকখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছেলের পর্যাপ্ত গুদামসুবিধা না থাকায় গুদামঘরের মালিকের স্বাক্ষর জাল করে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের বিষয়টি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের সুপারিশে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাঁদের দাবি, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে সোহাগ মুন্সী এবং হলদিয়া ইউনিয়নে মো. ওহাব খানকে সুপারিশ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

 

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম বদরুল আলম জানিয়েছেন, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ যাচাই করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সুপারিশ বা ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:০১:২৩ ● ৩১ বার পঠিত