শুক্রবার ● ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কয়রায় সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
হোম » খুলনা » কয়রায় সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)
খুলনার কয়রায় সরকারি জমির দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত হয়ে মারা যাওয়া পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে মানববন্ধনে তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন শেষে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের রাজ্জাক চেয়ারম্যানের মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুল আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি এম আনোয়ার হোসেন, নিহত গোলাম রব্বানীর মেয়ে বৈশাখী ও ছেলে বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, স্বজন হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে ১৩ শতক সরকারি জমির দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাম রব্বানী (৫২) এবং তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
আহত অন্যরা হলেন গোলাম রব্বানীর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)। আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গোলাম রব্বানীর অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগমকে (৩৫) আটক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৯:৩৪ ● ৩৫ বার পঠিত
