বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬

কুয়াকাটায় কোটি টাকার খাসজমি দখলচেষ্টার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে

হোম » কুয়াকাটা » কুয়াকাটায় কোটি টাকার খাসজমি দখলচেষ্টার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে
বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬


 

কুয়াকাটায় কোটি টাকার খাসজমি দখলচেষ্টার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাসজমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন ও দোকানঘর নির্মাণের মাধ্যমে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মো. আলী হায়দার শেখের বিরুদ্ধে। জমিটির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন মোসা. মুক্তা আক্তার। তবে আলী হায়দার শেখের দাবি, বৈধ দলিলের মাধ্যমে তিনি জমিটি কিনেছেন।

 

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের পশ্চিম দিকে ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাশে বিরোধপূর্ণ জমিটির অবস্থান। অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিতে জমিটি সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জমির এসএ দাগ নম্বর ৫১৭৪, ৫১৭৫, ৫১৭৬, ৫১৭৭ ও ৫১৭৮ এবং বিএস দাগ নম্বর ১৫৮৬, ১৫৮৭, ১৫৮৮ ও ১৫৮৯।

 

মুক্তা আক্তারের অভিযোগ, ২০২২ সালে ৩৫৫০ নম্বর সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে এসএ ৩৪ নম্বর লতাচাপলী মৌজার ১৩৪৬ নম্বর খতিয়ানের ৫৭ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। এরপর থেকে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর দাবি, বিএস জরিপের সময় অসতর্কতাবশত জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়।

 

জমির মালিকানা পুনরুদ্ধারে খেপুপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে ৮৩৯/২০২২ নম্বর মামলা করেছেন বলে জানান মুক্তা আক্তার। তাঁর অভিযোগ, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আলী হায়দার শেখ জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন ও দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁকে বাধা দিয়েও লাভ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

মুক্তা আক্তার জানান, স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

এদিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার একটি চিঠিতে লতাচাপলী মৌজার খাস খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমা, আদালতের রায় ও ডিক্রি এবং রেকর্ড সংশোধনের আবেদনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। চিঠিতে ১৮৮৩/২০১২ নম্বর লিভ টু আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিউ পিটিশনের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

 

চিঠিতে বলা হয়েছে, কেবল বায়নাপত্র বা অনিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতে সরকারি খাসজমির মালিকানা অর্জন করা যায় না। জমির মালিকানা ও হস্তান্তরের বৈধতা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক আইন এবং নিবন্ধিত দলিল বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ভূমি প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ক্ষতিপূরণ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে আলী হায়দার শেখ বলেন, ওই জমি যারা দাবিদার, আমি তাদের কাছ থেকেও ক্রয় করেছি। তারা যার কাছ থেকে ক্রয় করেছেন, তাঁদের কাছ থেকেও আমার দলিল নেওয়া আছে।

 

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম হাওলাদার বলেন, জমিসংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:০০:৪৫ ● ৫৬ বার পঠিত