সোমবার ● ১৯ অক্টোবর ২০২৬

১৫ বছর ধরে ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের নামে প্রতারণা, ভুয়া চিকিৎসককে জরিমানা

হোম » বরিশাল » ১৫ বছর ধরে ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের নামে প্রতারণা, ভুয়া চিকিৎসককে জরিমানা
সোমবার ● ১৯ অক্টোবর ২০২৬


 

১৫ বছর ধরে ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের নামে প্রতারণা, ভুয়া চিকিৎসককে জরিমানা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাবুগঞ্জ (বরিশাল)

 

ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে বরিশালের বাবুগঞ্জে আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার উপজেলার কলেজ গেট এলাকার একটি ফার্মেসিতে রোগী দেখার সময় তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত ডিভাইস ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

 

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আসছিলেন আলীমুল। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকাতেও তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

তাঁর ব্যবস্থাপত্রে ‘ডা. আলীমুল ইসলাম’ পরিচয়ের পাশাপাশি এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ ছিল। এ ছাড়া মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলে দাবি করেন তিনি।

 

স্থানীয় সালেহা বেগম চোখের সমস্যা ও মাথাব্যথার চিকিৎসা নিতে তাঁর কাছে গিয়েছিলেন। এক দালালের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, কলেজ গেট এলাকায় যন্ত্রের সাহায্যে রোগ নির্ণয় করে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে ডিভাইসে হাত রেখে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেন তিনি। পরে এভাবে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সালেহা। তাঁর মতো আরও অনেকে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী বলেন, ‘খবর পেয়ে ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করি। তাঁর দেখানো কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

 

ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। আলীমুল বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

 

ইউএনও আরও জানান, প্রথমবারের মতো তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। এ সময় চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

 

আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৪:১৫ ● ৩১ বার পঠিত