রবিবার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ভোলায় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
হোম » ভোলা » ভোলায় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভোলা
ভোলার সদর উপজেলায় বিএনপি নেতা হোসেন হাওলাদারকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার মো. আসিব (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আসিব রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেদুয়া গ্রামের ধলু হাওলাদারের ছেলে। আহত হোসেন হাওলাদার একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় একটি নির্জন স্থানে কয়েকজনের সঙ্গে লুডু খেলছিলেন আসিব। এ সময় হোসেন হাওলাদার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে তাদের লুডু খেলতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তারা সেখান থেকে চলে যান।
এরপর আনন্দবাজারে হোসেন হাওলাদারের সঙ্গে আসিবের আবারও বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসিব ধারালো ছুরি দিয়ে হোসেন হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গুরুতর আহত হন বিএনপি নেতা। পরে আসিব বাড়িতে চলে যান।
আহত হোসেন হাওলাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে স্বজনেরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান।
রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাজাহান বেপারী গণমাধ্যমকে বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত হোসেন হাওলাদার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
এদিকে, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আসিব আনন্দবাজারে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে মারধর করেন বলে জানা গেছে। আহত বিএনপি নেতার অনুসারী, স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের মারধরে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বশির আলম বলেন, স্থানীয় লোকজনের মারধরে একজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসিবকে উদ্ধার করে প্রথমে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় নেওয়া হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে পিকআপে করে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আসিবের মাথাসহ শরীরের অধিকাংশ স্থানে মারধরের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হাসপাতালে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জানেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৩:০৪ ● ২২ বার পঠিত
