শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কলাপাড়ায় জমি বিরোধে বিক্ষোভ, স্বাক্ষর জালের কথা স্বীকার অভিযুক্তের

হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় জমি বিরোধে বিক্ষোভ, স্বাক্ষর জালের কথা স্বীকার অভিযুক্তের
শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬


 

জিয়ানগরে উপজেলা পরিষদের পুকুরে মাছ শিকার, খাদ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে জব্দ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে বিক্ষোভ করেছেন একটি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চলমান মামলায় বিবাদীপক্ষের স্বাক্ষর জাল করে আপসনামা তৈরি এবং ওই নথির ভিত্তিতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছালাম নেগাবান স্বীকার করেছেন, তিনি স্বাক্ষর জাল করে আবেদন করেছিলেন। তবে তাঁর দাবি, মামলা আপস-মীমাংসার উদ্দেশ্যে তিনি এ কাজ করেছেন।

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

অভিযোগ-সংক্রান্ত কাগজপত্র অনুযায়ী, কলাপাড়া উপজেলার তেগাছিয়া মৌজার জে.এল. নম্বর ২১/৪৩-এর এসএ ৩৬৭ নম্বর খতিয়ানের ৩৩২৫ ও ৩৩২৬ নম্বর দাগের মোট এক একর জমির মালিকানা ও দখল দাবি করে আদালতে মামলা করেন ছালাম নেগাবান। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জমির দখল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আদালত।

 

বিবাদীপক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি মূলত ১ নম্বর খাস খতিয়ানের এসএ ২৬০১ নম্বর দাগের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে বালিয়াতলী নদী প্রবাহিত ছিল। পরে নদীর কিছু অংশ ভরাট হয়ে গেলে বিএস জরিপে দাগটি পরিবর্তিত হয়ে ৫০০৪, ৫০০৫ নম্বরসহ অন্যান্য দাগে অন্তর্ভুক্ত হয়। এসব জমির কিছু অংশ তেগাছিয়া মৌজায় এবং কিছু অংশ ডালবুগঞ্জ মৌজায় অবস্থিত বলে দাবি তাদের।

 

বিবাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, ছালাম নেগাবান বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন থাকার দাবি করলেও সরেজমিনে সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাদের ভাষ্য, ডালবুগঞ্জ মৌজার ভরাট হয়ে যাওয়া জমির কিছু অংশ তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন।

 

বিবাদীপক্ষের অভিযোগ, জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে আপস-মীমাংসার একটি রোয়েদাদনামা তৈরি করে তাতে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পরে তাঁদের অজ্ঞাতসারে নথিটি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়। এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে আপত্তি জানানোর জন্য সময় চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

 

বিক্ষোভে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব গাজী, রিয়াজুল ইসলাম, মো. বশির উদ্দিন, মো. সাইফুল খান ও নাসির উদ্দিন মোল্লা। তাঁদের দাবি, ছালাম নেগাবানের বাড়ি বালিয়াতলী নদীর পূর্ব পাড়ে। বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সেটি ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের জাহিদুল ইসলামের বাড়ি বলে তাঁরা দাবি করেন।

 

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ৪৭.২ নম্বর স্লুইসের মাধ্যমে কয়েক হাজার কৃষক তাঁদের জমির পানি নিষ্কাশন করেন। স্লুইসের বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দেওয়া হলে কৃষকদের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জমির প্রকৃত অবস্থান, বাড়ির মালিকানা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তাঁরা।

 

 

এদিকে, স্বাক্ষর জাল করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করার অভিযোগের বিষয়ে ছালাম নেগাবান বলেন, ‘কার্ডের জমি পাওয়ার পর চাষাবাদ করতে গেলে যাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, তারা বিভিন্নভাবে আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করেন। এ নিয়ে মামলা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান। মামলা আপস-মীমাংসার জন্য আমি স্বাক্ষর জাল করে আবেদন করেছিলাম। এটা আমার ভুল হয়েছে।’

 

বিক্ষোভকারীরা জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৬:৩৫ ● ১৯ বার পঠিত