বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬

তিল, কিশমিশ, মুক্তা-পুঁতি ও পাটে সাজানো সাতক্ষীরার দুর্গাপ্রতিমা

হোম » খুলনা » তিল, কিশমিশ, মুক্তা-পুঁতি ও পাটে সাজানো সাতক্ষীরার দুর্গাপ্রতিমা
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬


 

তিল, কিশমিশ, মুক্তা-পুঁতি ও পাটে সাজানো সাতক্ষীরার দুর্গাপ্রতিমা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

 

তিল, কিশমিশ, মুক্তা-পুঁতি ও পাটের আঁশে সাজানো হয়েছে সাতক্ষীরার বিভিন্ন দুর্গামণ্ডপের প্রতিমা। প্রচলিত সাজের বাইরে এসব উপকরণের ব্যবহার প্রতিমায় এনেছে ভিন্নতা। তবে অগ্নিঝুঁকির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দেশলাইয়ের কাঠি দিয়ে সাজানো একটি প্রতিমার সাজ পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরে দেড় লাখের বেশি দেশলাইয়ের কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে সাজানো হয়েছিল প্রতিমা। ভক্তদের মন কেড়ে নেওয়া সেই প্রতিমার গা থেকে এখন একে একে খুলে ফেলা হচ্ছে কাঠি। মেঝেতে স্তূপ করে রাখা কাঠির পরিবর্তে বসানো হচ্ছে তিল ও কিশমিশ। রেশমি সুতার সাজ থাকছে আগের মতোই।

 

প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার বলেন, এত অল্প সময়ে নতুন সাজ তৈরি করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবু কাজ থামাননি তিনি। ৪০ কেজি তিল, ১০ কেজি কিশমিশ ও ১০ জন কারিগর নিয়ে চলছে নতুন সাজ তৈরির কাজ।

 

বৃহস্পতিবার ( ১৫ অক্টোবর ) ভোর ৪টা ২২ মিনিটে নিজের ফেসবুক পোস্টে নবদ্বীপ সরকার জানান, প্রতিমার সাজ পরিবর্তনের কাজ চলছে। নতুন সাজের প্রতিমা দেখতে ভক্তদের আমন্ত্রণও জানান তিনি।

 

শুধু ব্রহ্মরাজপুরে নয়, সাতক্ষীরার বিভিন্ন মণ্ডপে এবার প্রতিমা সাজাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যতিক্রমী সব উপকরণ। আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে ৩৫ হাজার মুক্তা-পুঁতি দিয়ে সাজানো হয়েছে ১৩টি প্রতিমা। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, মহিষাসুর ও সিংহের সাজেও ব্যবহার করা হয়েছে এসব উপকরণ। সোনালি মুকুট ও রঙিন অলংকারের সঙ্গে সাদা মুক্তার আভা প্রতিমাগুলোকে দিয়েছে আলাদা রূপ।

 

গত মঙ্গলবার বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত মন্দিরটিতে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা। কেউ মুক্তা-পুঁতি বসাচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন রঙের শেষ ছোঁয়া।

 

দক্ষিণ বড়দল গ্রামের প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ মণ্ডল জানান, তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন শিল্পী ও কারিগর প্রায় ৫২ দিন ধরে প্রতিমার কাঠামো তৈরি, মাটির কাজ, রং ও মুক্তা-পুঁতির কারুকাজ করেছেন।

 

প্রকাশ মণ্ডল বলেন, প্রতিবছর প্রতিমায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি আমরা। এবার ১৩টি প্রতিমা সাজাতে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা-পুঁতি লেগেছে। এসব উপকরণ কিনতে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে প্রায় এক লাখ টাকার পুঁতি সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার কেশবলাল ঘোষ মহাশ্মশানে এবারই প্রথম দুর্গাপূজা হচ্ছে। সেখানে পাঁচ মণের বেশি পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। দেবীর অবয়ব ও পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাটের নান্দনিক ব্যবহার। দুই পাশে রয়েছেন লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। নিচে রয়েছে মহিষাসুর। প্রতিমার পেছনে বড় গোলাপি পদ্ম ও আলপনার নকশা সাজে যোগ করেছে ভিন্নতা।

 

আয়োজক কমিটির সদস্য দেবদাস কর্মকার বলেন, সোনালি আঁশ পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। একসময় পাট রপ্তানি করে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করত। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং পাটকে নতুনভাবে পরিচিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে, কলারোয়া পৌরসভার উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া পূজামণ্ডপে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল দিয়ে সাজানো হয়েছে ১৬টি প্রতিমা। প্রচলিত সাজের বাইরে এই উপকরণের ব্যবহার প্রতিমাগুলোকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

 

সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, ব্যতিক্রমী এসব আয়োজন স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করছে। তাঁর আশা, প্রতিমার বৈচিত্র্যময় সাজ এবার উৎসবের আকর্ষণ বাড়াবে।

 

সদরের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায় জানান, আগামীকাল শুক্রবার দুর্গাপূজা শুরু হবে।

 

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম সাগরকন্যাকে বলেন, এবার জেলায় ৬১০টি মণ্ডপে পূজা হবে। পুলিশ বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করছে এবং আয়োজকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। ব্যতিক্রমী প্রতিমার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৮:১২ ● ২২ বার পঠিত