মঙ্গলবার ● ১৩ অক্টোবর ২০২৬
নেতানিয়াহুকে হটাতে যে পথে একজোট ইসরায়েলের চার বিরোধী দল
হোম » বিশ্ব » নেতানিয়াহুকে হটাতে যে পথে একজোট ইসরায়েলের চার বিরোধী দল
![]()
সাগরকন্যা ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে পরাজিত করতে একজোট হয়েছে দেশটির চার প্রধান বিরোধী দল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে নির্বাচনের আগে পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচার না চালানো এবং নির্বাচনের পর সরকার গঠনে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে তারা।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এক ঘোষণাপত্রে এই ঐক্যের কথা জানানো হয়। এতে ইয়াশার পার্টি, ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু ও টুগেদার জোটের নেতারা অংশ নেন। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে এই উদ্যোগকে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক জরিপ অনুযায়ী, ইয়াশার পার্টি ২৩টি এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২১টি আসন পেতে পারে। টুগেদার জোট ১৩টি, ইসরায়েল বেইতেনু ৯টি এবং ডেমোক্র্যাটস ৯টি আসন পেতে পারে। চার বিরোধী দলের সম্মিলিত আসন হতে পারে ৫৪টি। ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৩টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও বিরোধী শিবিরের অধিকাংশ নেতা তাদের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য সত্ত্বেও সরকার গঠনের সমীকরণ অনিশ্চিত।
ফিলিস্তিন নীতিতে পরিবর্তন নিয়ে সংশয়
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারলেও ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে ইসরায়েলের নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন হতে পারে। বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী।
ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট পশ্চিম তীরে বসতি শক্তিশালী করার পক্ষে থাকলেও পুরো অঞ্চল ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার বিরোধিতা করেন। নাফতালি বেনেট ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী এবং বসতি সম্প্রসারণের সমর্থক। ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ পুরোপুরি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে।
এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ডেমোক্র্যাটস পার্টি। ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন দলটি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে। তবে তাদের প্রস্তাবেও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠিত হলে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, মানবিক সহায়তা প্রবেশ সহজ করা এবং গাজার পুনর্গঠনে কিছু অগ্রগতি হতে পারে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনিশ্চয়তা বড় নীতিগত পরিবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর ঐক্য ইসরায়েলে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করলেও ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও গাজা-পশ্চিম তীর নিয়ে নীতির পরিবর্তন কতটা হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার বদলালেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের সামগ্রিক অবস্থানে বড় পরিবর্তনের নিশ্চয়তা নেই।
বাংলাদেশ সময়: ২১:১৮:০১ ● ১৮ বার পঠিত
