বুধবার ● ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শার্শায় নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আর্চ গার্ডার সেতু
হোম » খুলনা » শার্শায় নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আর্চ গার্ডার সেতু
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল
যশোরের শার্শায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ১১৪ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন আর্চ গার্ডার সেতু। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার উলাশী ডাকবাংলা-যদুনাথপুর সড়কের ৪৫ দশমিক ০০ মিটার চেইনেজে সেতুটি নির্মাণ করা হবে।
‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেতুটির নির্মাণের প্রশাসনিক ও দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি এই প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ আধা-সরকারি পত্রের মাধ্যমে শার্শাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণ প্রকল্পটির অনুমোদন দ্রুত হয়েছে।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন বলেন, ‘শার্শায় এই প্রথম দৃষ্টিনন্দন আর্চ গার্ডার সেতু হচ্ছে। এতে শার্শাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। সেতুটি নির্মাণ হলে যানজটের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা সুফল পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হোক, এটাই নাগরিকদের প্রত্যাশা।’
প্রকল্প অনুমোদনের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ৮ হাজার ৮৪৪ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩ টাকা এবং সংযোগ সড়কের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার ৮১১ টাকা।
ই-জিপি পোর্টালের মাধ্যমে ‘এক ধাপ দুই খাম’ পদ্ধতিতে শিগগিরই কাজটির দরপত্র আহ্বান করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৮ মাসের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুরো কাজ শেষ করতে হবে।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রে কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দরপত্র আহ্বানের আগেই গ্লোবাল জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে সেতুর সঠিক লে-আউট নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ বা হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের সহায়তায় স্ট্যান্ডার্ড হাই ওয়াটার লেভেল পরিমাপ করে সেতুর সঠিক উচ্চতা বা ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বর্ষা মৌসুমে নৌযান চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
এ ছাড়া সেতুর পাইলিংসহ নির্মাণকাজের রিয়েল টাইম মনিটরিং এবং ভিডিও ফুটেজ প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে পাঠাতে হবে। ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক না হলে ঠিকাদারকে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না বলেও অনুমোদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এই সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে শার্শা উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫০:৩১ ● ২০ বার পঠিত
