মঙ্গলবার ● ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে মারধর, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

হোম » বরগুনা » যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে মারধর, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
মঙ্গলবার ● ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার তালতলীতে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে গৃহবধূকে মারধর ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই গৃহবধূকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ওই গৃহবধূ। ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলার আসামিরা হলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বটবালিক গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে মো. সুরুদ্দিন (৩০), মো. ইয়াছিন (২১) ও মোছা. তহমিনা বেগম (৪০)।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার বটবালিক এলাকার মো. সুরুদ্দিনের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়। তাঁদের তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, সন্তান জন্মের পর সৌদি আরব যাওয়ার জন্য স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন সুরুদ্দিন। দরিদ্র বাবার পক্ষে ওই টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। একপর্যায়ে সন্তানসহ তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

 

পরে এ ঘটনায় পারিবারিক আদালতে মামলা করেন ওই গৃহবধূ। মামলার পর আপসের মাধ্যমে তাঁরা আবার সংসার শুরু করেন।

 

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে স্বামীসহ অভিযুক্তরা গৃহবধূর বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে আবারও সৌদি আরব যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তাঁরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী তাঁর সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে কিল-ঘুষি ও পেটে লাথি মারা হয়। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে সুরুদ্দিন হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরেও আঘাত লাগে।

 

এ সময় অপর দুই আসামিও তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তিনজন মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর পরনের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে টান দেন। এতে তিনি শ্বাসকষ্টে গড়গড় শব্দ করতে থাকেন। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা সন্তানসহ তাঁকে ফেলে চলে যান।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

 

মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫১:৫৪ ● ২৫ বার পঠিত