মঙ্গলবার ● ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গলাচিপায় পাওনা টাকা চাওয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ
হোম » পটুয়াখালী » গলাচিপায় পাওনা টাকা চাওয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় পাওনা টাকা চাইতে গেলে স্বামী-স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শাহআলম বেপারীর ছেলে সুজন বেপারী বলেন, তার বাবা শাহআলম বেপারী ও মা রশনা বেগম দুজনই হৃদরোগে আক্রান্ত। সোমবার বিকেলে চরকাজল খেয়াঘাট থেকে নামার পর আলম মীর, তার ছেলে আরিফ মীরসহ কয়েকজন তাদের পথরোধ করে আলম মীরের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে তার বাবা-মাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তার বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার মাকেও মারধর করে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহত শাহআলম বেপারী বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আলম মীর তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন। এ সময় আলম মীর স্ট্যাম্প, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি দেন। পাওনা টাকা চাইলে ‘দিচ্ছি, দিচ্ছি’ বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে এবং তিনিও আলম মীরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানান শাহআলম।
তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বন্যাতলী থেকে খেয়া পার হয়ে চরকাজলে পৌঁছালে আলম মীর ও তার লোকজন তাকে ও তার স্ত্রীকে ধরে দোকানের ভেতরে নিয়ে মারধর করেন। পরে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে জোর করে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত রশনা বেগম বলেন, তার স্বামীকে মারধরের পাশাপাশি তাকেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। তলপেটে লাথি মারা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ও তার স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নোমান পারভেজ বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তারা তৃতীয় তলার ৫ ও ৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।
অভিযুক্ত আলম মীরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
চরকাজল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শিয়াব হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। দুই পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:৫৯:৫৪ ● ২৭ বার পঠিত
