রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভান্ডারিয়ায় শিক্ষকদের বেতন বন্ধের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা

হোম » শিক্ষা » ভান্ডারিয়ায় শিক্ষকদের বেতন বন্ধের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা
রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

ভান্ডারিয়ায় শিক্ষকদের বেতন বন্ধের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর

 

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সাতজন সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়ে দরজায় পেরেক মেরে আটকে রেখেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। এ সময় প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।

 

অভিযোগে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, সহকারী শিক্ষকদের হয়রানি এবং শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে তিনি অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেন।

 

তদন্তকালে সহকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক হয়রানি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ধরেন। শিক্ষকরা তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্যও দেন। এরপর প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

 

শিক্ষকদের অভিযোগ, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক সাতজন সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বিরোধ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়ে দরজায় পেরেক মেরে আটকে দেন।

 

এদিকে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। রবিবার তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসানের হোয়াটসঅ্যাপে ছুটির আবেদন পাঠিয়েছেন।

 

বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ধর্মীয় শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সাতজন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে রেখেছেন। তিনি স্বেচ্ছাচারীভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রশাসনিক তদন্তে শিক্ষকরা সাক্ষ্য দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সাতজন সহকারী শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দেন। এ কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়েছেন।’

 

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করার মূল কারণ তারা প্রাইভেট পড়ান। প্রশাসনিক কারণে সাময়িকভাবে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করেছি। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

 

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করার বিষয়টি শুনেছি। কী কারণে কক্ষটি বন্ধ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৪:৫৬ ● ২২ বার পঠিত