শনিবার ● ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরগুনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাংবাদিকদের নিয়ে সচেতনতা সভা

হোম » বরগুনা » বরগুনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাংবাদিকদের নিয়ে সচেতনতা সভা
শনিবার ● ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বরগুনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাংবাদিকদের নিয়ে সচেতনতা সভা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বরগুনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সাংবাদিকদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি চিত্তরঞ্জন শীল, জাকির হোসেন মিরাজ, মনির হোসেন কামাল, অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন হাওলাদার, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক শাহ আলীসহ প্রেসক্লাবের সদস্যরা।

 

সভাপতির বক্তব্যে মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু এখন শুধু মৌসুমি রোগ নয়। এ রোগ প্রতিরোধে সারা বছর সচেতন থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা। এডিস মশা সাধারণত মানুষের আশপাশে জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে।

 

তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা ফেলে দিয়ে পাত্রটি পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

 

প্রেসক্লাব সভাপতি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসন বা স্বাস্থ্য বিভাগের একার দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ব। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি ও কর্মস্থল থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। একজন সচেতন মানুষ তাঁর পরিবারকে সচেতন করবেন, একটি পরিবার সচেতন হলে একটি মহল্লা সচেতন হবে। এভাবেই সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

 

সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা শুধু সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করবেন না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায়, চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কোথাও মশার প্রজননস্থল বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা গেলে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুধু মশার বিরুদ্ধে লড়াই নয়, এটি অসচেতনতা ও অপরিচ্ছন্নতার বিরুদ্ধেও লড়াই। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

 

সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে নিয়মিত সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা ও সতর্কতার বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৬:৪১ ● ১৬ বার পঠিত