শনিবার ● ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে বাকেরগঞ্জের তরুণীকে বিয়ে চীনা যুবকের

হোম » বরিশাল » প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে বাকেরগঞ্জের তরুণীকে বিয়ে চীনা যুবকের
শনিবার ● ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে বাকেরগঞ্জের তরুণীকে বিয়ে চীনা যুবকের

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল)

 

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের পর বাংলাদেশে এসে বরিশালের বাকেরগঞ্জের এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনের এক যুবক। প্রায় দেড় বছর যোগাযোগের পর গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশে আসেন ৩৫ বছর বয়সী জিয়াং। পরদিন ধর্ম পরিবর্তনের এফিডেভিট করে আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে করেন জান্নাতুল ইসলাম ইভাকে।

 

জিয়াং চীনের জিয়াংসি প্রদেশের ইছুন শহরের বাসিন্দা। আর জান্নাতুল ইসলাম ইভা বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামের জাকির হাওলাদারের মেয়ে।

 

ইভা জানান, ২০২৪ সালে মোবাইল ফোন কিনতে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় গেলে তিনজন চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে একটি মার্কেটে তাদের সঙ্গে কফি খাওয়ার সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা তাকে চীনা যুবক জিয়াংয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ইউ চ্যাটের মাধ্যমে জিয়াংয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রায় দেড় বছর সম্পর্ক চলার পর গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশে আসেন জিয়াং। ওই দিনই ইভার সঙ্গে তার প্রথম সরাসরি দেখা হয়। পরদিন ৪ আগস্ট নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ধর্ম পরিবর্তনের এফিডেভিট করেন তিনি। পরে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে ইভাকে বিয়ে করেন।

 

ইভা বলেন, বিয়ের পর কিছুদিন আগে জিয়াংকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় থেকে বাবার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জে আসি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আমাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজের পর পারিবারিকভাবে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছে।

 

নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে ইভা বলেন, জিয়াং গ্রাম খুব পছন্দ করেন। বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল আমার বিয়েতে বড় আয়োজন করার। তাই গ্রামে এসে আয়োজন করেই বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়েছে। জিয়াং আমাকে অনেক ভালোবাসেন। স্বামী হিসেবে তার প্রতিও আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে।

 

জিয়াংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ইভা বলেন, ‘ওর ভাষা আমি অল্প অল্প বুঝি। বাকিটা অ্যাপসের মাধ্যমে কথা বলি। সে আমাদের পরিবারের সবার সঙ্গে খুব সুন্দর ব্যবহার করছে। আমাদের দেশীয় খাবার ও এলাকার পরিবেশও তার বেশ পছন্দ হয়েছে।’

 

অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে জিয়াং জানান, ইউ চ্যাটের মাধ্যমে ইভার সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন এবং ইভাকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

 

ইভার বাবা জাকির হাওলাদার বলেন, জামাই হিসেবে তাকে আমরা মেনে নিয়েছি। এক মাসেরও বেশি সময় হয়েছে জিয়াং বাংলাদেশে এসেছে। আমার মেয়ের পাসপোর্ট তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কিছুদিন পরেই সে আমার মেয়ে ইভাকে নিয়ে চীনে ফিরে যাবে।

 

তবে চীনা নাগরিক জিয়াংয়ের বাংলাদেশে অবস্থান ও স্থানীয় এক তরুণীকে বিয়ের বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল না বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।

 

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, চীনা নাগরিক জিয়াং সম্পর্কে আমরা অবগত নই। তিনি বৈধ পাসপোর্টে বাংলাদেশে এসেছেন কি না এবং এ অঞ্চলের এক নারীকে বিয়ে করেছেন কি না, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:০২:৩৪ ● ২০ বার পঠিত