বুধবার ● ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমতলীতে ছাত্রীদের ওয়াশরুমের ভিডিও ধারণের অভিযোগ, এক বছরেও ব্যবস্থা হয়নি
হোম » বরগুনা » আমতলীতে ছাত্রীদের ওয়াশরুমের ভিডিও ধারণের অভিযোগ, এক বছরেও ব্যবস্থা হয়নিসাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণ, উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও এক বছর ধরে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
জানা গেছে, মোঃ ইকবাল হোসেন রুবেল ২০১০ সালে কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। গত বছরের ২৫ মে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা এবং ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে। ছাত্রীদের অভিযোগ, ওই ভিডিও দেখিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হতো।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। পরে গত বছরের ২৭ মে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মাহমুদ সেলিম বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রীদের লিখিত বক্তব্য নেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৩১ জুলাই দেওয়া প্রতিবেদনে সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে তার কর্মকাণ্ডকে চাকরি বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের শামিল উল্লেখ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তবে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সুযোগে তিনি আরও ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৩১ আগস্ট বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর ভাই তার বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর শিক্ষক রুবেলকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রত্যেক শ্রেণিতে একজন ছাত্রীকে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। গত বছর ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। ওই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক কাজে জড়ানোর চেষ্টা করা হতো। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।’
তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন রুবেল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। গত বছর আমার বিরুদ্ধে কী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী মোঃ গোলাম ফারুক বলেন, ‘শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, এটা সত্য। কিন্তু তৎকালীন কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।’
কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ দিয়েছিল। ওই ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। শিক্ষক রুবেল ছাত্রীর অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে শেষবারের মতো ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। এরপর কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মাহমুদ সেলিম বলেন, ‘শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণ ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। চাকরি বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৪:১৪ ● ২২ বার পঠিত
