সোমবার ● ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমতলীতে চাওড়া নদীর কচুরীপানা অপসারণে অনিয়মের অভিযোগ
হোম » বরগুনা » আমতলীতে চাওড়া নদীর কচুরীপানা অপসারণে অনিয়মের অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলীর চাওড়া বন্ধ নদী ও এর শাখা নদীর প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় কচুরীপানা অপসারণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী শিকড়সহ কচুরীপানা অপসারণের পরিবর্তে যন্ত্র দিয়ে উপরিভাগ কেটে নদীতেই ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে কচুরীপানা পুনরায় বিস্তার লাভের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ চাওড়া বন্ধ নদী ও এর শাখা নদীগুলো দীর্ঘদিন ধরে কচুরীপানায় ভরাট হয়ে আছে। প্রায় ২৫ বছর ধরে জমে থাকা কচুরীপানার কারণে নদীর পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া ও আমতলী সদর ইউনিয়নসহ আমতলী পৌরসভার বিপুলসংখ্যক মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন।
নদী থেকে কচুরীপানা অপসারণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সচেতন নাগরিক ও পরিবেশকর্মীরা আন্দোলন করে আসছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘সুবন্দী প্রকল্পের’ আওতায় নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার নদী থেকে কচুরীপানা অপসারণের কাজ পান পটুয়াখালীর ঠিকাদার বশির উদ্দিন।
গত বুধবার থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কচুরীপানা অপসারণের কাজ শুরু করে। তবে কাজের শুরুতেই দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরপত্র অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে কচুরীপানার শিকড় ও গোড়াসহ তুলে ফেলতে হবে, যাতে পুনরায় এর বিস্তার না ঘটে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন যন্ত্র ব্যবহার করে কচুরীপানার শুধু উপরিভাগ কেটে ফেলছেন। কাটা কচুরীপানাও নদীতে পড়ে থাকছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার ( ৭ সেপ্টেম্বর ) সরেজমিনে দেখা যায়, একটি যন্ত্র দিয়ে নদীর কচুরীপানার উপরিভাগ কেটে ফেলা হচ্ছে। অধিকাংশ কচুরীপানার গোড়া নদীতেই রয়ে গেছে এবং কাটা অংশও পুরোপুরি অপসারণ করা হয়নি।
নদীপাড়ের বাসিন্দা মো. শিবলী শরীফ ও নজরুল ইসলাম বলেন, কচুরীপানা অপসারণের নামে যেভাবে যন্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে, তাতে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং গোড়া থেকে যাওয়ায় নতুন করে কচুরীপানা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা বলেন, আগে থেকেই কচুরীপানার কারণে পানি পচে পরিবেশ দূষিত হয়ে আছে। এখন কাটা কচুরীপানা নদীতে ফেলে রাখলে তা পচে পরিবেশের আরও ক্ষতি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, কচুরীপানা সরানোর কাজ দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল আমাদের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু যেভাবে কাজ করা হচ্ছে, তাতে উপকারের চেয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
এদিকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান ঠিকাদার বশির উদ্দিনকে নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হলে এর দায় ঠিকাদারকে বহন করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শর্ত অনুযায়ী কাজ না হলে বিল ছাড় না দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
ঠিকাদার বশির উদ্দিনের ম্যানেজার মো. জাহিদ হোসেন বলেন, নদীর পানি নষ্ট থাকায় শ্রমিকরা পানিতে নামতে চান না। তাই যন্ত্র দিয়ে কচুরীপানা কেটে কিনারে তুলে আনার কাজ করা হচ্ছে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান বলেন, দরপত্র অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে কচুরীপানার গোড়াসহ মাটি থেকে তুলে ফেলতে হবে, যাতে নতুন করে এর বিস্তার ঘটতে না পারে। অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারকে ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দরপত্রের শর্ত অনুসরণ না করলে এর দায়ভার ঠিকাদারকেই নিতে হবে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, ঘন কচুরীপানা অপসারণের বিষয়ে ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা ও দরপত্রের শর্ত অনুযায়ীই তাকে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:২৮:১৪ ● ২৮ বার পঠিত
