বৃহস্পতিবার ● ২৭ আগস্ট ২০২৬
কলাপাড়ায় দেড় দশক ঘরবন্দি রহস্যময় নারীকে ঘিরে কৌতূহল
হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় দেড় দশক ঘরবন্দি রহস্যময় নারীকে ঘিরে কৌতূহল
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রায় দেড় দশক ধরে ঘরের বাইরে বের হননি সালেহা বেগম (৬০)। কারও সঙ্গে কথা না বলে জরাজীর্ণ একটি কুটিরে অনেকটা বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। এমনকি গোসল কিংবা প্রাকৃতিক কাজেও তাকে বাইরে বের হতে দেখেননি স্থানীয়রা। এ কারণে তাকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল।
সালেহা বেগম পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার মৃত আবুল কালামের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার বসতঘরটিই যেন হয়ে উঠেছে তার পুরো পৃথিবী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ঘরটি হেলে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সেটি আরও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। চারপাশে জমে আছে নর্দমার দুর্গন্ধযুক্ত পানি। বিদ্যুৎহীন ওই ঘরের ভেতর দাঁড়ানোর মতো জায়গাও নেই। ঘরটি এখন সাপ-পোকামাকড়ের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে বললেও ভুল হবে না। এমন পরিবেশেই প্রায় ১৫ বছর ধরে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে কার্যত কোনো যোগাযোগ না রেখে বসবাস করছেন সালেহা বেগম।
সরেজমিনে জানা যায়, সালেহা বেগমের ছেলে জিয়া প্রায় তিন বছর ধরে লিভার ও কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। বাইরে থেকে তার খোঁজখবর নেওয়া ও খাবার দেওয়ার কাজ করেন মেয়ে লাকী বেগম। তিনি বলেন, যে কোনো সময় ঘরটি ধসে পড়ে মায়ের প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই নতুন ঘর নির্মাণসহ মাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা চান তিনি।
প্রতিবেশী কালাম বলেন, ‘সালেহা বেগমকে ১৫ বছর ধরে আমরা বাইরে দেখিনি। তিনি সবসময় জরাজীর্ণ ঘরটির মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। কোথায় গোসল করেন বা প্রাকৃতিক কাজ সারেন, তা-ও আমরা জানি না।’
প্রতিবেশী রাবেয়া বেগম বলেন, ‘তার স্বামী মারা গেছেন প্রায় ১৫ বছর আগে। এরপর থেকে তাকে আর বাইরে দেখিনি। ঘর থেকে বের করার জন্য অনেকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তিনি কারও সঙ্গে কথা বলেন না। তার মেয়ে ভাত দিলে খান, আবার অনেক সময় ফিরিয়ে দেন। পরিবারটি অসহায়। মেয়ে লাকী মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।’
এদিকে সালেহা বেগমের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলম। তিনি বলেন, ‘ওই ঘরে কোনো মানুষের বাস করা সম্ভব নয়। কীভাবে তিনি সেখানে থাকেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। প্রাথমিকভাবে আমরা তার পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দিয়েছি। তার অসুস্থ ছেলের বিষয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেছি। পরবর্তীতে তার বাসস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৯:১৫ ● ২১ বার পঠিত
