রবিবার ● ২৩ আগস্ট ২০২৬

গৌরনদীতে মৃত্যুর আগে লেখা চিরকুটে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, রিফাতের অস্বীকার

হোম » বরিশাল » গৌরনদীতে মৃত্যুর আগে লেখা চিরকুটে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, রিফাতের অস্বীকার
রবিবার ● ২৩ আগস্ট ২০২৬


 

খবর পেয়ে ছুটে আসা মৃত লাবনীর বাড়ীতে স্বজনরা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

 

‘আমি আর বাঁচতে চাই না, আমার জীবনটা ওরা শেষ করে দিয়েছে’- চিরকুটে এমন কথা লিখে যাওয়ার পর লাবনী আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। চিরকুটে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, নির্যাতন ও মানসিক চাপের অভিযোগ তোলেন লাবনী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন একসময়ের প্রেমিক থেকে স্বামী হওয়া রিফাত ঘারমী।

 

লাবনীর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বিভিন্ন সময় মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। তবে রিফাত ঘারমীর দাবি, লাবনীর পরিবারের করা এসব অভিযোগ সত্য নয়। তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় মাস আগে পার্শ্ববর্তী মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর এলাকার আমজেদ আলী ঘরামীর ছেলে রিফাত ঘরামীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর লাবনীর বিয়ে হয়। বিয়ের আগে তারা একই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন।

 

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২১ আগস্ট)। ওই দিন সকাল ১১টার দিকে লাবনী বিষপান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত লাবনী আক্তার উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভূরঘাটা এলাকার হাসমত আলী খানের মেয়ে।

 

স্বজনদের দাবি, বিষপানের আগে লাবনী একটি চিরকুট লিখে যান। এতে তিনি নিজের কষ্ট, দাম্পত্য জীবনের নানা অভিযোগ, পারিবারিক অশান্তি এবং বেঁচে থাকার অনিচ্ছার কথা উল্লেখ করেন। চিরকুটে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণ এবং নিজের ওপর মানসিক চাপের কথাও তুলে ধরেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

লাবনীর বোন রাজিয়া খাতুন বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লাবনীকে বিভিন্ন সময় মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এসব কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

 

স্বজনরা জানান, লাবনীর বিষপানের খবর পেয়ে রিফাত ঘরামী হাসপাতালে যান। পরে লাবনীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে দাবি করেন তারা।

 

তবে রিফাত ঘারমী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, লাবনীর পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।

 

তবে চিরকুটে থাকা অভিযোগ এবং পরিবারের বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫০:৫৮ ● ৩৫ বার পঠিত