শনিবার ● ২২ আগস্ট ২০২৬
সনদে অন্যের তথ্য, পাথরঘাটায় স্কুল কমিটির সভাপতি নিয়ে প্রশ্ন
হোম » লিড নিউজ » সনদে অন্যের তথ্য, পাথরঘাটায় স্কুল কমিটির সভাপতি নিয়ে প্রশ্ন
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পাথরঘাটা (বরগুনা)
বরগুনার পাথরঘাটার হাঁড়িটানা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ছগির আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ের কমিটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া তার নামে থাকা একটি ডিগ্রি সনদ যাচাই করে অন্য একজনের শিক্ষাগত তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য বাতায়নে ছগির আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া সনদে ছগির আলমকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাস এবং জিপিএ ২.৯৪ অর্জনকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সনদটির তথ্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাচাই করলে সেখানে ছগির আলমের পরিবর্তে মো. আবুল কালাম আজাদ নামে একজনের শিক্ষাগত তথ্য পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মো. আবুল কালাম আজাদ পাথরঘাটার সরকারি হাজী জালাল উদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের (তৎকালীন হাজী জালাল উদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ/বিএসএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
অন্যদিকে, পাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য বাতায়নে ছগির আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তিনি পাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য বোর্ডে পাঠানো তথ্যে তাকে স্নাতক পাস দেখানো হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বিদ্যালয়টির চার সদস্যের এডহক ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদন দেয়। এতে বোর্ডের মনোনয়নে ছগির আলমকে সভাপতি করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, এডহক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান। সভাপতি মনোনয়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর বিধান রয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, ছগির আলমের নাম বোর্ডে পাঠানোর আগে তার শিক্ষাগত সনদ যাচাই করা হয়েছিল কি না। যাচাই হয়ে থাকলে, তার নামে জমা দেওয়া সনদে অন্য ব্যক্তির শিক্ষাগত তথ্য কীভাবে পাওয়া গেল, সেটিও জানতে চাইছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাঁড়িটানা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কুমার মিত্র বলেন, সভাপতির জন্য তিনজনের নাম ইউএনও কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত সনদ যাচাই করা তার দায়িত্বের মধ্যে ছিল না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছগির আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্ধ্যার পর কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পালের মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলে তিনি জবাবে জানান, বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান হাওলাদার বলেন, প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত সনদ সরাসরি যাচাই করার সুযোগ বোর্ডের নেই। ইউএনও ও ডিসি সনদ যাচাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের প্রস্তাব পাঠানোর পর বোর্ড অনুমোদন দেয়। তবে কোনো সনদ নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৩:০৩ ● ২৬ বার পঠিত
