শুক্রবার ● ২১ আগস্ট ২০২৬
পচা কলা, পুরোনো বানরুটি ও নষ্ট সেদ্ধ ডিমে মনপুরার মিড ডে মিল
হোম » লিড নিউজ » পচা কলা, পুরোনো বানরুটি ও নষ্ট সেদ্ধ ডিমে মনপুরার মিড ডে মিল
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মনপুরা (ভোলা)
ভোলার মনপুরা উপজেলার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবকটিতে চালু রয়েছে মিড ডে মিল। তবে এ কর্মসূচিতে বিতরণ করা খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পচা কলা, পুরোনো বানরুটি ও নষ্ট সেদ্ধ ডিম দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও একটি ডিম ও একটি কলা অর্ধেক করে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর তুলনায় খাবারের বরাদ্দ কম থাকায় এমনটি করা হয় বলে জানিয়েছেন কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আবার কোনো দিন শিক্ষার্থী কম উপস্থিত থাকলে অতিরিক্ত খাবারও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় বলে জানান তারা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়ে নিয়মিতই সমস্যা হচ্ছে। তাদের দাবি, মনপুরা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় কলা, বানরুটি ও ডিম ভোলা জেলা থেকে সরবরাহ করা হয়। ফলে বানরুটি দুই-তিন দিনের পুরোনো হয়ে যায় এবং অনেক সময় কলা ও ডিমও নষ্ট অবস্থায় আসে। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের এসব খাবার খেতে দেন না।
স্থানীয় বাজার থেকে তাজা ও মানসম্মত কলা, বানরুটি, ডিম ও দুধ সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
জানা গেছে, রবিবার ডিম ও বানরুটি, সোমবার বানরুটি ও দুধ, মঙ্গলবার কলা ও বিস্কুট এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার বানরুটি ও ডিম দেওয়া হয়। মিড ডে মিলের জন্য প্রতিটি ডিমের দাম ১৪ টাকা, প্রতিটি কলা ১০ টাকা এবং দুটি বানরুটির দাম ২৫ টাকা হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
উপজেলার মাষ্টারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাতলী (১৫০০) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণ প্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পেয়ারী মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মোট ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর প্রায় ৯০ শতাংশকে মিড ডে মিলের খাবার দেওয়া হয়। উপস্থিত শিক্ষার্থী বেশি হলে খাবার ভাগ করে দিতে হয়। আবার কোনো দিন শিক্ষার্থী কম উপস্থিত হলে অতিরিক্ত খাবারও তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
পচা কলা, পুরোনো বানরুটি ও নষ্ট সেদ্ধ ডিম বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাবার সরবরাহ করে, সেভাবেই তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। মাঝে মাঝে কলা ও বানরুটির মান নিয়ে অভিযোগ আসে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
হাজিরহাট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ মো. আলমগীর হোসেন এবং প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ বলেন, ‘মিড ডে মিল চালু একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। তবে মানহীন খাবার বিতরণ করা হলে শিশু শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।’ তারা মনপুরার স্থানীয় বাজার থেকে মিড ডে মিলের কলা, বানরুটি, ডিম ও দুধ সংগ্রহ করে বিতরণের দাবি জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া আছে, কোনো পচা বা মানহীন খাবার গ্রহণ না করে ফেরত দিতে।’
প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মানহীন খাবার সরবরাহ ও তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
স্থানীয় বাজার থেকে মিড ডে মিলের খাবার সংগ্রহের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ভোলা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩২:১০ ● ১৯ বার পঠিত
