মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ১৯৯৯

দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের খাবার নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

হোম » লাইফস্টাইল » দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের খাবার নিরাপদ রাখবেন যেভাবে
মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ১৯৯৯


 

প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক

 

দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস, দুধ, ডিমসহ পচনশীল খাবার। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এতে খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে কিছু সতর্কতা মেনে চললে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের সময়ও খাবার কিছুটা বেশি সময় নিরাপদ রাখা সম্ভব।

 

বারবার ফ্রিজের দরজা খুলবেন না

 

বিদ্যুৎ চলে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অপ্রয়োজনে ফ্রিজের দরজা না খোলা। দরজা খুললে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং বাইরের উষ্ণ বাতাস ঢোকে। এতে খাবার দ্রুত গরম হয়ে যেতে পারে।

 

লোডশেডিং শুরু হওয়ার পর ফ্রিজে কী আছে তা দেখার জন্য বারবার দরজা খোলা এড়িয়ে চলুন। বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরও প্রয়োজন ছাড়া দরজা না খোলাই ভালো।

 

ফ্রিজে খাবার গুছিয়ে রাখুন

 

ফ্রিজার বা ফ্রিজের ভেতরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঠান্ডা খাবার থাকলে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘসময় ঠান্ডা ধরে রাখা যায়। তাই বিদ্যুৎ যাওয়ার আগে সম্ভব হলে ফ্রিজারের জমাট খাবারগুলো গুছিয়ে রাখুন।

 

তবে ফ্রিজ অতিরিক্ত ঠাসাঠাসি করে রাখা উচিত নয়। ঠান্ডা বাতাস চলাচলের জন্য কিছুটা জায়গা রাখা প্রয়োজন।

 

বরফ বা আইস প্যাক ব্যবহার করুন

 

দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকার আশঙ্কা থাকলে আগে থেকেই কয়েকটি পানিভর্তি বোতল বা আইস প্যাক জমিয়ে রাখতে পারেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে এগুলো ফ্রিজার বা খাবারের কাছাকাছি রাখলে কিছু সময়ের জন্য ভেতরের তাপমাত্রা কম রাখতে সহায়তা করবে।

 

যেসব এলাকায় নিয়মিত দীর্ঘ লোডশেডিং হয়, সেখানে কয়েকটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য আইস প্যাক ফ্রিজে জমিয়ে রাখা যেতে পারে। জরুরি সময়ে এগুলো কাজে লাগবে।

 

কাঁচা মাছ-মাংস আলাদা রাখুন

 

কাঁচা মাছ ও মাংস ভালোভাবে প্যাক করে আলাদা পাত্র বা ব্যাগে রাখা উচিত। বিশেষ করে কাঁচা মাংস থেকে বের হওয়া তরল যেন অন্য খাবারের ওপর না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

লোডশেডিংয়ের সময় খাবার গলতে শুরু করলে কাঁচা মাছ-মাংস থেকে জীবাণু অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে এসব খাবার ফ্রিজারের সবচেয়ে ঠান্ডা অংশে রাখুন।

 

গন্ধ বা রং দেখে খাবার নিরাপদ ধরে নেবেন না

 

বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর অনেকেই মাছ-মাংসের গন্ধ বা রং দেখে খাবারটি খাওয়ার উপযোগী কি না সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শুধু গন্ধ, রং বা চেহারা দেখে সবসময় খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।

 

পচনশীল খাবার দীর্ঘসময় নিরাপদ তাপমাত্রার বাইরে থাকলে ক্ষতিকর জীবাণু বেড়ে যেতে পারে। তাই খাবার নিয়ে সন্দেহ থাকলে ঝুঁকি না নিয়ে তা ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।

 

গলে যাওয়া খাবার আবার জমাবেন?

 

ফ্রিজারের খাবার পুরোপুরি গলে গেলে সেটি স্বাভাবিকভাবে আবার জমিয়ে রাখা সবসময় নিরাপদ নয়। তবে খাবারে এখনও বরফের কণা থাকলে বা খাবার যথেষ্ট ঠান্ডা অবস্থায় থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

 

তাই খাবার কতক্ষণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল এবং কতটা গলেছে, তা বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে মাছ-মাংস পুরোপুরি গলে গিয়ে দীর্ঘসময় উষ্ণ অবস্থায় থাকলে শুধু আবার ফ্রিজে রেখে দেওয়া উচিত নয়।

 

বিদ্যুৎ আসার পর কী করবেন?

 

বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের দরজা খুলে সব খাবার পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। কিছুক্ষণ ফ্রিজ চলার পর প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার বের করুন। যেসব খাবার নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, সেগুলো আলাদা করে রাখুন।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের সময় খাবার বাঁচানোর চেয়ে পরিবারের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। সামান্য খাবার নষ্ট হওয়া আর খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি নেওয়া এক বিষয় নয়। তাই সন্দেহজনক মাছ-মাংস বা অন্য পচনশীল খাবার খাওয়ার ঝুঁকি না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

বাংলাদেশ সময়: ০:০০:০০ ● ৪৫ বার পঠিত