শুক্রবার ● ১৪ আগস্ট ২০২৬
বরগুনায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে ব্যবসায়ী
হোম » বরগুনা » বরগুনায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে ব্যবসায়ী

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার পাথরঘাটায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন এক ব্যবসায়ী। মামলা তুলে না নিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মো. মামুন (৩৫)।
গত ১০ আগস্ট পাথরঘাটা থানায় মামলাটি করেন মামুন। মামলায় পাথরঘাটা পৌরসভার বাসিন্দা মো. এনামুল হক ইমু (৩৫) ও তাঁর সহযোগী মো. ইমরান খান রিফাতকে (৩২) আসামি করা হয়েছে। এনামুল হক ইমু পাথরঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামুন পাথরঘাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স বলেশ্বর আইস ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক। তাঁর অভিযোগ, এনামুল হক ইমু প্রায়ই ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৬ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে এনামুল হক ইমু, ইমরান খান রিফাতসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন আইস ফ্যাক্টরিতে ঢুকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ইমু তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরলে তিনি চেয়ার থেকে মাটিতে পড়ে যান। পরে ইমরানসহ অন্যরা লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ইমুর নির্দেশে ইমরান ক্যাশ ড্রয়ার খুলে বরফ বিক্রির ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যান।
মামুন বলেন, তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ওই এলাকায় ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা গুটিয়ে চলে যেতে হবে। পরে তিনি পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
শুক্রবার সকালে মামুন বলেন, মামলা করার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। তাঁকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
মামুন আরও বলেন, ‘পুলিশ দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে আমাকে যেকোনো সময় হত্যা করা হতে পারে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনামুল হক ইমুর মুঠোফোনে শুক্রবার দুপুরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, ‘আসামি পলাতক থাকায় এখনো গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান আছে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৭:৫২ ● ৩৩ বার পঠিত
