বুধবার ● ১২ আগস্ট ২০২৬

৭৩ দিনেই পবিত্র কোরআন মুখস্থ, হাফেজ হলো ১৩ বছরের মুসাইব

হোম » ইসলামী জীবন » ৭৩ দিনেই পবিত্র কোরআন মুখস্থ, হাফেজ হলো ১৩ বছরের মুসাইব
বুধবার ● ১২ আগস্ট ২০২৬


 

৭৩ দিনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়া ১৩ বছর বয়সী মুসাইব হোসাইন।

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

 

মাত্র ৭৩ দিনে পবিত্র কোরআনুল কারিমের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে ১৩ বছর বয়সী মুসাইব হোসাইন। কঠোর অধ্যবসায়, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ে কোরআন হেফজ সম্পন্ন করায় তাকে ‘বিস্ময়বালক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন শিক্ষক ও স্বজনরা।

 

মুসাইব বরিশালের গৌরনদী উপজেলা গেটসংলগ্ন হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। সে আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রামের মিজানুর রহমান বেপারীর ছেলে। ৭৩ দিনে কোরআন মুখস্থ সম্পন্ন করায় মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

 

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই মুসাইব অত্যন্ত মেধাবী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়ে বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করে সে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।

 

মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর পড়াশোনার পাশাপাশি কোরআন হেফজে বিশেষ মনোযোগ দেয় মুসাইব। শিক্ষকরা জানান, অন্য শিক্ষার্থীরা বিকেলে খেলাধুলা করলেও মুসাইব নিরিবিলি কোনো জায়গায় বসে কোরআন পড়ত। এমনকি রাতে অন্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পরও সে নিয়মিত তিলাওয়াত ও মুখস্থের অনুশীলন চালিয়ে যেত। কোনো কোনো দিন একদিনেই এক পারা পর্যন্ত মুখস্থ করেছে সে।

 

মুসাইবের বাবা মিজানুর রহমান বেপারী বলেন, ‘আল্লাহ আমার ছেলেকে মেধা দিয়েছেন। তাই তার এই মেধা দ্বীনের কাজে ব্যবহার করার ইচ্ছা থেকেই আলেম-ওলামাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করি। আল্লাহ তায়ালা মাত্র ২ মাস ১৩ দিনে তাকে হাফেজ হিসেবে কবুল করেছেন। এতে বাবা হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত। ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

 

হাফেজ মুসাইব হোসাইন বলেন, ‘সবার দোয়ায় আমি ৭৩ দিনে কোরআনের হাফেজ হতে পেরেছি। বড় হয়ে একজন বড় আলেম হতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

 

মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ক্বারী একরামুল হক বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় শুনেছি, কেউ দুই মাসে, কেউ এক বছরে কোরআন হেফজ করেছে। কিন্তু আমার নিজের ছাত্রজীবন ও শিক্ষকতা জীবনে এমন মেধাবী ছাত্র পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই আশা পূরণ করেছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘অন্য ছাত্ররা যখন বিকেলে খেলাধুলা করত, তখন মুসাইব এক পাশে বসে কোরআন পড়ত। রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলেও সে তিলাওয়াত করত। নিজের আগ্রহ, চেষ্টা ও আল্লাহ তায়ালার রহমতে মাত্র ২ মাস ১৩ দিনে সে কোরআন শরিফ মুখস্থ করেছে। এমনও দিন গেছে, একদিনে সে এক পারা মুখস্থ করেছে। এটি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি।’

 

মুসাইবের মক্তব শিক্ষক বলেন, ‘মুসাইবকে আমরা বিস্ময়বালক হিসেবে পেয়েছি। আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমতে সে মাত্র ২ মাস ১৩ দিনে কোরআনুল কারিম হেফজ করতে সক্ষম হয়েছে। মক্তবে পড়ার সময় থেকেই সে অত্যন্ত মেধাবী ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি অল্প সময়ে কোরআন মুখস্থ করার এই সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৪:৩০ ● ৩০ বার পঠিত