সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬
বরগুনায় আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যায়-আসে, থমকে গেছে ব্যবসা-অফিস-আদালতের কাজ
হোম » বরগুনা » বরগুনায় আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যায়-আসে, থমকে গেছে ব্যবসা-অফিস-আদালতের কাজ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। একবার বিদ্যুৎ এলেও স্থায়ী হচ্ছে বড়জোর আধা ঘণ্টা। এতে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে পানি সরবরাহসহ অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কম্পিউটার, ফটোকপিয়ার, হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর পাম্প চালাতে না পারায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বরগুনা পৌর এলাকার বাসিন্দারা।
গত ৩ আগস্ট ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেন নাগরিকরা। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎ মন্ত্রী ও চিফ হুইপ বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সাত দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়। সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং আন্দোলনকারীদের দাবি, লোডশেডিং আরও বেড়েছে।
শহরের স্বাদ কম্পিউটার দোকানের মালিক সজিব বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। সকালে অফিস-আদালতের কাজের চাপ বেশি থাকে। কিন্তু ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গ্রাহকদের কাজ সময়মতো করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আল্লাহ মালিক হসপিটালের পরিচালক আবু হাসান বলেন, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
আইনজীবীর সহকারী আবদুল গফুর বলেন, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আইনজীবীদের চেম্বারে কম্পিউটার ও ফটোকপির কাজ বেশি হয়। ওই সময় ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যাচ্ছে না।
আদালতের এক পেশকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই-মোহর দেওয়ার কাজও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ছাড়া আদালতের কার্যক্রম চালানোও কষ্টকর।
বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির অন্যতম নেতা মুশফিক আরিফ বলেন, ‘৩ আগস্ট নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়ে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছি। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এভাবে একটি জেলা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চলতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও আন্দোলনে যাব। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। বরগুনার সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।’
বরগুনা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান বলেন, শহর এলাকায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ১০ আগস্ট সরবরাহ পাওয়া গেছে ৩ মেগাওয়াটের কম। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাতেও প্রায় ৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট।
তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও চাহিদার বড় ধরনের ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৭:১০ ● ১৭ বার পঠিত
