সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬
ভাণ্ডারিয়ায় দাখিলের ফলে বিপর্যয়, পাঁচ মাদ্রাসায় পাস করেনি কেউ
হোম » শিক্ষা » ভাণ্ডারিয়ায় দাখিলের ফলে বিপর্যয়, পাঁচ মাদ্রাসায় পাস করেনি কেউ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার পাঁচটি মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৩ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি মাদ্রাসায় পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজপাশা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে আটজন, পশারিবুনিয়া নূর মোহাম্মদ কারিগরি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন, জামেয়া-ই-উম্মুল কুরআন ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন, দারুল মুহাম্মদ আদর্শ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১০ জন এবং চরখালী দাখিল মাদ্রাসা (নন-এমপিও) থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব ৫৩ জনের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হয়নি।
এদিকে উপজেলার আরও কয়েকটি মাদ্রাসার ফলাফলও সন্তোষজনক হয়নি। আলগাজ্জালি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৫৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১০ জন, ভাণ্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন কামিল মাদ্রাসায় ৫০ জনের মধ্যে ১৪ জন, নোয়াখালী মাটিভাঙ্গা আলিম মাদ্রাসায় ১৭ জনের মধ্যে একজন, সিংহখালী দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে দুজন, আতরখালী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ১২ জনের মধ্যে একজন, পূর্ব মাটিভাঙ্গা মোন্তাজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জনের মধ্যে দুজন এবং উত্তর ধাওয়া আলহাজ কাশেমিয়া আলিম মাদ্রাসায় ১০ জনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
ফলে সামগ্রিকভাবে উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষার আগে যথাযথ প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে।
একজন অভিভাবক বলেন, ‘কেন এত শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করা দরকার। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা উচিত।’
শিক্ষাবিদদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ‘ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হবে। একই সঙ্গে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলায় ৩৬টি মাদ্রাসা থেকে ৭৭০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৬৫ জন। উপজেলায় দাখিলে মোট পাসের হার ৩৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।
সচেতন মহলের দাবি, যেসব মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশ পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৪:২৮ ● ২৪ বার পঠিত
