সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬

মহিপুরে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য; বিরোধীয় জমিতে ফের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » মহিপুরে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য; বিরোধীয় জমিতে ফের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬


 

আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে ফের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ থাকা একটি বিরোধীয় জমিতে ফের দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক দাবিদার মো. মজিবুর রহমানের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন তাঁর চাচি ফাতেমা বেগম।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার থানাসদর মহিপুর ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, কলাপাড়া উপজেলার ইউসুফপুর মৌজার জে.এল. নম্বর-২৭, বি.এস. দাগ নম্বর-৩৭২ ও ৮১৬ এবং খতিয়ান নম্বর-১২৯, ২৩০৩ ও ২০৭-এর অন্তর্ভুক্ত মোট ১ দশমিক ২৫ একর জমি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

ফাতেমা বেগমের দাবি, মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলে গত ২২ জুলাই আদালত উভয় পক্ষকে বিরোধীয় জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে ওই আদেশের পরও একই এলাকার মো. ইমরান হাওলাদার, হানিফ, ইব্রাহিমসহ কয়েকজন ও তাঁদের সহযোগীরা জমিতে প্রবেশ করে টিন ও কাঠ দিয়ে পাটাতন নির্মাণ করে দুটি ঘর তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে আবারও বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আরও ১০ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার আসামি মাহাতাব মাওলানা ও শাহীন মীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি ‘মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাঁদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে বিরোধীয় জমিতে নির্মাণ করা দুটি ঘর মহিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই জমিতে আবারও দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপনা নির্মাণে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।’ তবে স্থাপনা নির্মাণের পেছনে বিএনপির কোনো ইন্ধন রয়েছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

 

ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম হাওলাদার বলেন, ‘বিষয়টি আদালতের। আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা ঘর উত্তোলনের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।’

 

আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:২১:৪৩ ● ২৩ বার পঠিত