বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬

মেয়ে থেকে ছেলে পরিচয়ে কাবির, কালিয়াকৈরে তরুণকে ঘিরে চাঞ্চল্য

হোম » আলোচিত খবর » মেয়ে থেকে ছেলে পরিচয়ে কাবির, কালিয়াকৈরে তরুণকে ঘিরে চাঞ্চল্য
বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬


 

মেয়ে থেকে ছেলে পরিচয়ে কাবির, কালিয়াকৈরে তরুণকে ঘিরে চাঞ্চল্য

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এলাকায় এক কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন হয়ে ছেলে পরিচয়ে জীবনযাপন শুরু করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবর্তনের পর জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে তার নাম রাখা হয়েছে কাবির।

 

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে ওই তরুণের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। কাবিরের বয়স ১৬ বছর। সে কামরাঙ্গীরচালা এলাকার কাউয়ুম দেওয়ানের সন্তান এবং স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আগে তার নাম ছিল কেয়া আক্তার। গত বছর থেকে তার শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। বিষয়টি পরিবারের নজরে এলে তারা বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। চিকিৎসকরা জানান, এটি হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হওয়ায় সে পুরুষ পরিচয়ে চলাফেরা শুরু করে। পরে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের মাধ্যমে তার নাম পরিবর্তন করে কাবির রাখা হয়।

 

কাবিরের মা কনিকা ইসলাম বলেন, বিয়ের বিষয়ে কথা বললে সে রেগে যেত। পরে জানতে চাইলে একসময় সব বিষয় আমাদের খুলে বলে। এরপর আমরা চিকিৎসকের কাছে যাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, তার শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হচ্ছে। আমরাও তার শরীরে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাই। পরে কয়েকদিন আগে নাম পরিবর্তন করেছি।

 

কাবির বলেন, ২০২৫ সাল থেকে নিজের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করি। এসএসসি পরীক্ষার পর বিষয়টি পরিবারকে জানাই। আগে নিয়মিত মাসিক হতো, পরে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে শরীরে ছেলেদের মতো পরিবর্তন হচ্ছে। নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। আমি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী, তাই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছি।

 

ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, কেয়া আমাদের স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। আমরা তাকে মেয়ে হিসেবেই জানতাম। পরে জানতে পারি, তার শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন হয়েছে এবং সে ছেলে পরিচয়ে জীবনযাপন করছে। বিষয়টি জানার পর আমরা তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৩:২৩ ● ৭ বার পঠিত