বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬

মহিপুরে রাখা্ইন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কারিতাসের সভা

হোম » পটুয়াখালী » মহিপুরে রাখা্ইন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কারিতাসের সভা
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬


 

মহিপুরে রাখা্ইন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কারিতাসের সভা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মহিপুর (পটুয়াখালী)

 

উপজাতি রাখাইন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে মহিপুর আন্ধারমানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।

 

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মহিপুরে কারিতাস কার্যালয়ে কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের এলসিএমও-আইডিপিডিসি প্রকল্পের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

সভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসী (রাখাইন) ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্যমূলক আচরণ দূর করতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি বিভিন্ন সেবায় তাদের সমঅধিকার ও সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ফ্রান্সিস বেপারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চল)-এর সভাপতি মং চোখিন তালুকদার। বক্তব্য দেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মসূচি কর্মকর্তা সম্রাট সিরাও, মানবাধিকারকর্মী ও উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন (রাজু) এবং ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ।

 

এলসিএমও-আইডিপিডিসি প্রকল্পের মংম্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে সর্বজনীন প্রার্থনা পরিচালনা করেন বেনজামিন স্বপন গোমেজ। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন সভাপতি।

 

রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও কালাচানপাড়া রাখাইন পল্লীর মাতুব্বর অংকোছান স্থানীয় রাখাইন জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সরকারি সেবায় তাদের সমঅধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফ্রান্সিস বেপারী বলেন, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং টেকসই উন্নয়নে কারিতাস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। মহিপুর আন্ধারমানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থানীয় জনগণের দক্ষতা উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

মং চোখিন তালুকদার বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বৈষম্যমুক্ত সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

সম্রাট সিরাও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা ধরনের দুর্যোগ ও ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে। তাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, সরকারি সেবা এবং দুর্যোগ-সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

 

আবুল হোসেন (রাজু) বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো বৈষম্য দূর করা। আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে।

 

আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, অধিকার ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৩:১৮ ● ২৪ বার পঠিত