বৃহস্পতিবার ● ১৬ জুলাই ২০২৬
মঠবাড়িয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ভারপ্রাপ্ত’ নির্ভরতা, ২৩ প্রতিষ্ঠানে নেই স্থায়ী প্রধান
হোম » শিক্ষা » মঠবাড়িয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ভারপ্রাপ্ত’ নির্ভরতা, ২৩ প্রতিষ্ঠানে নেই স্থায়ী প্রধান

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদেও দীর্ঘদিন স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা প্রশাসনে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতটি মাদ্রাসা ও তিনটি কলেজসহ মোট ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলায় মোট এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১৩টি।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘদিন স্থায়ী প্রধান না থাকলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধানরা দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশাসনিক বিষয় নিষ্পত্তি এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েন। এছাড়া বারবার অ্যাডহক কমিটি গঠনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নও ব্যাহত হয়।
এদিকে, উপজেলায় দীর্ঘদিন স্থায়ী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ভান্ডারিয়া উপজেলার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পরে ২০২৬ সালের ১২ জুলাই তাকে মঠবাড়িয়ার স্থায়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হলেও ১৫ জুলাই পর্যন্ত তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে তিনি যোগ দিতে পারেন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম সীমিত জনবল নিয়ে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা, প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও বাছাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তবে শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে পুরো ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। স্থায়ী নেতৃত্ব ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা উন্নয়ন অর্জন কঠিন।
গুলিশাখালি জি কে ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নূর হোসেন মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক- উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নেতৃত্বে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। শিক্ষার স্বার্থে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ থেকে শিক্ষক দেবে।’ শিক্ষা প্রশাসনের অন্যান্য সমস্যা সম্পর্কে মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন প্রধানের পদ শূন্য থাকলে শিক্ষার মান, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে স্থায়ী শিক্ষা প্রশাসন না থাকলে সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন, তদারকি ও শিক্ষার মানোন্নয়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত শূন্য পদে যোগ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ, নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ সময়: ২:১৯:০৮ ● ২৯ বার পঠিত
