বুধবার ● ১৫ জুলাই ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে কলাপাড়ায় জমি দখলের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে কলাপাড়ায় জমি দখলের অভিযোগ
বুধবার ● ১৫ জুলাই ২০২৬


 

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে কলাপাড়ায় জমি দখলের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাফির দাবি, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমে জমি নিয়ে তিনি রাস্তা নির্মাণ করেছেন।

 

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নুরুজ্জামান কাফি তার ক্রয়কৃত জমিতে যাতায়াতের জন্য বিদ্যালয়ের জমির ওপর দিয়ে প্রায় ৬ শতাংশ জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বাধা দিতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযুক্ত নুরুজ্জামান কাফি কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪, ১৯৫৯ ও ১৯৬৭ সালসহ বিভিন্ন সময়ে মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নং-৯-এর বিএস ১২ নং খতিয়ানের ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে হস্তান্তর করা হয় বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

 

প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে নুরুজ্জামান কাফি বিদ্যালয়ের জমির প্রায় ৬ শতাংশ জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণ শুরু করেন। আমরা বাধা দিলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

 

অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ‘স্কুলের পেছনে আমার কেনা জমি রয়েছে। সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। প্রথমে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, মোবারক পঞ্চায়েতের ওয়ারিশরা উচ্চ আদালতের রায়ে জমির মালিক হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে নিয়ে রাস্তা করেছি। আমি কারও জমি দখল করিনি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

 

মোবারক পঞ্চায়েতের নাতি সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান বলেন, ‘২৯ একর জমি নিয়ে প্রায় ৩০ বছর মামলা চলার পর পটুয়াখালী আদালত ও উচ্চ আদালত ২০২৫ সালের জুনে আমাদের পক্ষে রায় দেন। পরে কাফির যাতায়াতের জন্য ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী জমির মালিক আমরা।’

 

তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি এবং সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানের আদালতের রায়ের দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। খোঁজ নিয়ে সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। যদি বিদ্যালয়ের জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৮:২০ ● ২২ বার পঠিত