মঙ্গলবার ● ১৪ জুলাই ২০২৬
তজুমদ্দিনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত শুরু
হোম » ভোলা » তজুমদ্দিনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত শুরু

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, তজুমদ্দিন (ভোলা)
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার ৮২ নম্বর চাঁদপুর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এক নারী অভিভাবককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা, সহকারী শিক্ষকদের হয়রানি, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং সরকারি সম্পদ ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পর উপজেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত শুরু করেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী এক নারী অভিভাবকের দাবি, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাপ দিয়ে আসছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই তাদের সঙ্গে অশালীন ও অপমানজনক ভাষায় কথা বলেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। তাদের ভাষ্য, পাঠদান চলাকালেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়। কখনও স্কুল ফিডিংয়ের খাদ্যসামগ্রী তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া, আবার কখনও বাজারে পাঠানোর মতো কাজেও শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করা হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সোলার সিস্টেম ও ল্যাপটপ প্রধান শিক্ষক নিজ বাসায় নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন, যা সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের শামিল।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের সরকারি কিছু সরঞ্জামও অনুপস্থিত। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল কম।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক প্রথমে অপেক্ষা করতে বলে বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি ছেলেকে নিয়ে এসে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রিয়াজ আলম বলেন, ‘অভিভাবক ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অবগত হয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০:০২:২১ ● ১২ বার পঠিত
