শুক্রবার ● ১০ জুলাই ২০২৬
৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন পটুয়াখালী শহরে প্রবল বাতাসে উপড়ে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর চাম্বল গাছ
হোম » পটুয়াখালী » ৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন পটুয়াখালী শহরে প্রবল বাতাসে উপড়ে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর চাম্বল গাছ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
প্রবল বাতাস ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে পটুয়াখালী পৌরশহরের বিটাইপ সড়কে একটি বিশাল চাম্বল গাছ শিকড়সহ উপড়ে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর পড়ে। এতে প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে গাছটি সড়কে পড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং পাশের সরকারি আবাসিক এলাকার একটি বাউন্ডারি ওয়ালেরও ক্ষতি হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টা ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। গাছটি বিদ্যুতের খুঁটির ওপর আছড়ে পড়ায় খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৩৩ কেভি লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে জৈনকাঠী ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছটি কেটে অপসারণ করে। পরে ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি অপসারণ করে বিকল্প ব্যবস্থায় জৈনকাঠী ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করেন। কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সড়কেও যান চলাচল শুরু হয়।
ওজোপাডিকোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খান বলেন, চাম্বল গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস গাছ অপসারণের পর বিকল্প পদ্ধতিতে জৈনকাঠী ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও লাইনের স্থায়ী মেরামতের কাজ চলছে।
পটুয়াখালী সদর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ রাজীব বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি অপসারণ করে। এতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা নিরাপদে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প বাতাস কিংবা মাঝারি ধরনের ঝড়েই চাম্বল গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে বা পুরো গাছ উপড়ে যায়। টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে গেলে এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, সড়ক, বসতবাড়ি ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।
পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, উপকূলে ঝড়, দমকা হাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চাম্বল গাছ। জনবসতির আশপাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ অপসারণ, নতুন করে এর চারা উৎপাদন ও রোপণ বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞার দাবি দীর্ঘদিনের। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাইমা আক্তার ও মাসুদুর রহমান বলেন, একটি গাছ উপড়ে পড়ে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ ও সরকারি স্থাপনার ক্ষতি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা শহর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ দ্রুত চিহ্নিত করে অপসারণ এবং এর পরিবর্তে নিরাপদ প্রজাতির গাছ রোপণের দাবি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৮:২২ ● ৩৭ বার পঠিত
