শনিবার ● ৬ জুন ২০২৬
বাউফলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল ও ঘর নির্মাণের অভিযোগ
হোম » পটুয়াখালী » বাউফলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল ও ঘর নির্মাণের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমি দখল, ঘর নির্মাণ এবং পুকুরের মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভরিপাশা মৌজার ৪০৫ ও ৪০৬ নম্বর খতিয়ানের ৯৩ নম্বর দাগসহ একাধিক দাগে প্রায় ১২ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক আলী খান ও মজিবুর খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে মজিবুর খান ও তাঁর ভাইয়েরা ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে মোবারক আলী খান বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
এ ঘটনার পর গত ২২ জানুয়ারি মজিবুর খানকে বিবাদী করে পটুয়াখালী সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন মোবারক আলী খান। মামলায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে গত ২৪ মে জমির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার (স্থিতাবস্থা) নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই আদেশের পরদিন ২৫ মে মজিবুর খান ও তাঁর ভাইয়েরা বিরোধপূর্ণ জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এতে বাধা দিতে গেলে মোবারক আলী খান ও তাঁর ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। একই দিন মোবারক আলী খানের ছেলে দেলোয়ার খান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে মুচলেকা নেয় এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার নির্দেশ দেয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মজিবুর খান ও তাঁর লোকজন পুনরায় ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে মোবারক আলী খানের পুকুর থেকে মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মোবারক আলী খান বলেন,
বিরোধপূর্ণ জমিতে তারা কোনো অংশ পাওয়ার কথা নয়। তবুও প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে। কোনো সালিশ-বিচার মানছে না, এমনকি আদালতের আদেশও উপেক্ষা করছে। পুলিশকে জানিয়েও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাইনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে মজিবুর খান বলেন,
ওই দাগে আমি জমি পাব। তাই আমার জমিতে ঘর তুলছি।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বাউফল থানার এএসআই মো. মেহেদী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। থানায় ডেকে তাদের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করে, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৩:২৯ ● ২৪ বার পঠিত
