শনিবার ● ৬ জুন ২০২৬

কলাপাড়ায় বোনের করা ধর্ষণচেষ্টার মামলা: ভাইকে ছাড়তে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

হোম » আলোচিত খবর » কলাপাড়ায় বোনের করা ধর্ষণচেষ্টার মামলা: ভাইকে ছাড়তে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ
শনিবার ● ৬ জুন ২০২৬


 

কলাপাড়ায় বোনের করা ধর্ষণচেষ্টার মামলা: ভাইকে ছাড়তে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণচেষ্টার মামলা আপস করতে ১০ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে বড় বোনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

জানা গেছে, গত ৩১ মে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের কাজ করতে গিয়ে কলাপাড়া পৌরশহরের বাদুরতলী এলাকার এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে ইলেকট্রিশিয়ান ফোরকান হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তাকে আটকে রেখে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

 

পরে ওই নারী বাদী হয়ে ফোরকান হাওলাদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

 

তবে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এবং অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা।

 

ফোরকানের স্ত্রী রেহেনা অভিযোগ করেন, ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর কোনো কথা না বলেই তার স্বামীকে ঘরের দরজা বন্ধ করে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তিনি বলেন, অভিযোগকারী আমার ননদ, যিনি আমার স্বামীর চেয়ে অন্তত ১৩ বছরের বড়।

 

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে ননদের পরিবার আমার স্বামীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। পরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস সামগ্রী নিয়ে আরও ২৫ হাজার টাকা বাকি রাখে। পাওনা টাকা চাইলে তারা টালবাহানা শুরু করে। এর মধ্যে আমার স্বামী ননদের মেয়ের জামাতাকে ইয়াবাসংক্রান্ত ঘটনায় ধরিয়ে দেয়। এরপরই পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। এখন মামলা তুলে নিতে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

 

ফোরকানের ছোট ভাই কালাম বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া একজন মানুষকে ডেকে নিয়ে মারধর করে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। পাওনা টাকা এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

 

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ এবং পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের কারণে কৌশলে ফোরকানকে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণবিরোধী জনমতকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ফকরুল বলেন, ভাইবোনের বিষয়টি শুনে আমি ওই নারীর স্বামীকে ফোন করেছিলাম। তখন তার ফোন থেকেই একজন নারী আমাকে বলেন, ১০ লাখ টাকা দিলেই মামলা তুলে নেওয়া হবে। পরে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক মনে হয়েছে।

 

তবে অভিযোগকারী নারীর স্বামী ফকু বিশ্বাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোনো টাকা দাবি করিনি। অন্য একজন এমন কথা বলে থাকতে পারেন। আর ঘটনাটিও মিথ্যা নয়।

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

 

উল্লেখ্য, মামলাটির অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলো এখনো তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৫:৩৩ ● ২৬ বার পঠিত