বৃহস্পতিবার ● ৪ জুন ২০২৬

রাঙ্গাবালীতে ইউপি সদস্যকে পায়ের নলা ভেঙে দেওয়ার হুমকি, শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে জিডি

হোম » পটুয়াখালী » রাঙ্গাবালীতে ইউপি সদস্যকে পায়ের নলা ভেঙে দেওয়ার হুমকি, শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে জিডি
বৃহস্পতিবার ● ৪ জুন ২০২৬


রাঙ্গাবালীতে ইউপি সদস্যকে পায়ের নলা ভেঙে দেওয়ার হুমকি, শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে জিডি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার শ্রমিক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সির বিরুদ্ধে এক ইউপি সদস্যকে মোবাইল ফোনে পায়ের নলা ভেঙে দেওয়ার হুমকি ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাঙ্গাবালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

এর আগে তার বিরুদ্ধে সালিশ বাণিজ্য, চাঁদা দাবি, এবং বিয়ে বাড়িতে হামলার মতো একাধিক অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (গঙ্গিপাড়া-সামুদাবাদ) ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করে তাকে হুমকি দেন ফিরোজ মুন্সি। ওই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল অডিওতে ইউপি সদস্যকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পায়ের নলা ভেঙে ফেলার হুমকি দিতে শোনা যায় ফিরোজ মুন্সিকে। ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু এবং এক নারীর ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও শোনা যায় তাকে।

ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, এক নারী আমাকে জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ফিরোজ মুন্সি তাকে কুপ্রস্তাব দেন। আমি বিষয়টি ভিডিও করি। এ কারণেই আমাকে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করেছি।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ফিরোজ মুন্সি এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িত এবং ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের সচেতন করার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হুমকি দেন।

অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজ মুন্সি বলেন, আমার সম্মানহানি করার জন্য এআই প্রযুক্তিতে অডিওটি এডিট করা হয়েছে। নারী সংক্রান্ত অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ইউপি সদস্যকে মোবাইল ফোনে হুমকির ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগী নারীর একটি ভিডিও বক্তব্য বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, এর আগে ফিরোজ মুন্সির বিরুদ্ধে সালিশ বাণিজ্য, চাঁদা দাবি এবং বিয়ে বাড়িতে হামলার অভিযোগসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জমিজমা বিরোধ নিষ্পত্তির নামে ৩২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। গত ১১ এপ্রিল চাঁদা না পেয়ে এক বিএনপি নেতার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ও মারধরের অভিযোগও ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছ।


কেএইচ/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২০:০৪:১৩ ● ২২ বার পঠিত