বৃহস্পতিবার ● ৪ জুন ২০২৬
বরগুনায় দুই শিশুসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধার, বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
হোম » বরগুনা » বরগুনায় দুই শিশুসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধার, বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলা থেকে দুই কন্যাশিশুসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন বরগুনা পৌর শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রাণী (৩৪) এবং তার দুই কন্যা আরাধা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্মৃতি রাণী ওই ডাকবাংলোতে খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিকেলে কর্মচারীরা পাশাপাশি দুটি কক্ষে মরদেহ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে।
ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা-এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি ঘিরে নানা গুঞ্জন ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পরবর্তীতে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেন।
ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহ তিনটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিচারের দাবিতে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে বরগুনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে সাধারণ মানুষও অংশ নেন।
নিহত ইতি রাণীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে এবং আমার দুই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। পুলিশ প্রথমে হত্যা মামলা না নিয়ে জিডি করেছে, যা সঠিক হয়নি।
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং দ্রুত সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।
এক বিক্ষোভকারী হিন্দু নারী অভিযোগ করে বলেন, ইতি রাণীকে হত্যার আগে নির্যাতন করা হয়েছে। শিশুরা তা দেখে ফেলায় তাদেরও হত্যা করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।
এ বিষয়ে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল আলীম বলেন, তিনটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। একাধিক টিম কাজ করছে।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচকে/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:২২:৫৫ ● ৩২ বার পঠিত
