বৃহস্পতিবার ● ৪ জুন ২০২৬
সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা আমতলীতে নারীর বিরুদ্ধে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
হোম » বরগুনা » সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা আমতলীতে নারীর বিরুদ্ধে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলীতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। গভীর নলকূপ, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিডি কার্ড, বিধবা, বয়স্ক ও মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে জসিম মিয়াসহ ১০ জন ভুক্তভোগী বৃহস্পতিবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকার লতিফ মাদবরের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা নিজেকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে আসছেন। সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত এক বছরে তিনি অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার পরও কাউকে কোনো সুবিধা পাইয়ে দিতে পারেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের ঘুরিয়ে আসছিলেন জাকিয়া। সম্প্রতি তার কর্মকাণ্ডে সন্দেহ সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে শুরু করেন। কিন্তু গত এক মাস ধরে তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।
ভুক্তভোগী মো. জসিম মিয়া বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গভীর নলকূপ স্থাপনের কথা বলে জাকিয়া সুলতানা আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এক বছর পেরিয়ে গেলেও নলকূপ পাইনি। এখন টাকা চাইলে তিনি টালবাহানা করছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
রুস্তুম মৃধা, ফিরোজা বেগম, নুরজাহান বেগম ও মাহফুজা বেগম বলেন, গভীর নলকূপ বসানোর কথা বলে আমাদের কাছ থেকে মোট ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন নলকূপও দিচ্ছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। আমরা এর বিচার চাই।
পরিভানু, রোজিনা ও শাহিনুর বেগম বলেন, ভিজিএফ কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে দিয়েছি।
মাহিয়া বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ঋণ করে টাকা দিয়েছি। এখন কার্ডও পাইনি, টাকাও ফেরত পাচ্ছি না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাকিয়া সুলতানার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (০১৭১৮-৩৩৯৮৫৭ ও ০১৩১৪-৪৪৬৫৯১)-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, জাকিয়া সুলতানা নামে কোনো নারী অতীতে বা বর্তমানে আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন না। তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাছনাইন পারভেজ বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত নারী বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করছেন না বলে জানা গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচকে/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪২:০০ ● ৪২ বার পঠিত
