মঙ্গলবার ● ২ জুন ২০২৬

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

হোম » ভোলা » মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ
মঙ্গলবার ● ২ জুন ২০২৬


মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভোলা

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদকে মঙ্গলবার দুপুরে নিজ জেলা ভোলায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার কোরালিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তৃতীয় জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে ভোলাসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তার মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে ভোলায় আনা হয়। মরদেহ ভোলায় পৌঁছালে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। পরে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কোরালিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় ও শেষ জানাজা। আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তাকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। এ সময় শোকাহত পরিবেশে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের নাম বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হবে। ষাটের দশকের উত্তাল ছাত্ররাজনীতির সময় তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি দেশের রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সহকর্মীরা মন্তব্য করেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ভূমিকা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৭:৫১ ● ৫১ বার পঠিত