বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২৬

ঈদ আনন্দে কুয়াকাটায় ৪ লাখ পর্যটক প্রত্যাশা, নতুন রূপে সাজছে পর্যটন নগরী

হোম » লিড নিউজ » ঈদ আনন্দে কুয়াকাটায় ৪ লাখ পর্যটক প্রত্যাশা, নতুন রূপে সাজছে পর্যটন নগরী
বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২৬


 

ঈদ আনন্দে কুয়াকাটায় ৪ লাখ পর্যটক প্রত্যাশা, নতুন রূপে সাজছে পর্যটন নগরী

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকদের পদচারণা বাড়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা, ঈদের ছুটিতে এক সপ্তাহে কুয়াকাটায় ৩ থেকে ৪ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, শুটকি মার্কেট, সৈকতের বেঞ্চি-ছাতা ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন সাজে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

 

ঈদুল ফিতরের সময় টানা এক সপ্তাহ পর্যটকে মুখর থাকলেও পরবর্তী দুই মাস পর্যটক সংকটে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা। এতে ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে এবার ঈদুল আজহাকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে ইতোমধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। বিভিন্ন দোকানে নতুন পণ্যের সমাহার আনা হয়েছে। সৈকতের বেঞ্চি ও ছাতাতেও দেওয়া হয়েছে নতুনত্বের ছোঁয়া। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলের প্রায় ৫০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।

 

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন শুটকি মার্কেটের ব্যবসায়ী আসলাম হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন পর্যটক কম থাকায় ব্যবসা প্রায় বন্ধের পথে ছিল। ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন প্রজাতির শুটকি মাছ সংগ্রহ করেছি। আশা করছি এবার ভালো বিক্রি হবে এবং আগের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব।

 

কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সংলগ্ন হোটেল ফ্রেন্ডস পার্কের ম্যানেজার পারভেজ সাগরকন্যাকে বলেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকে খুব কম দামে কক্ষ ভাড়া দিয়েও পর্যটক পাওয়া যায়নি। এতে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। তবে এবার ইতোমধ্যে আমাদের ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি ঈদের পুরো সপ্তাহজুড়ে সব কক্ষ বুকিং থাকবে।

 

সৈকতের বেঞ্চি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, পর্যটকদের সেবার মান যত বাড়বে, পর্যটকও তত বাড়বে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ীরই লাভ হবে।

 

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, ঈদের এক সপ্তাহে কুয়াকাটায় ৩ থেকে ৪ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ১৬টি পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্যাকেজ বুকিংও চলছে।

 

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

 

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, পৌর প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশও সৈকত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। আশা করছি পর্যটকরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ সময়: ১১:১৯:৫৩ ● ২৯ বার পঠিত