শুক্রবার ● ২২ মে ২০২৬

জিয়ানগর টগড়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিসের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগ

হোম » পিরোজপুর » জিয়ানগর টগড়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিসের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগ
শুক্রবার ● ২২ মে ২০২৬


 

জিয়ানগর টগড়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিসের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, জিয়ানগর (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মো. কাওসার হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রকে যৌন নির্যাতন ও বলৎকারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর সময় কয়েকজন ছাত্রকে যৌন নির্যাতন করেন। সম্প্রতি মাদ্রাসার একটি কক্ষে এক ছাত্রকে বলৎকারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটি বাইরে থেকে কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেছে বলে জানা গেছে।

 

অভিযুক্ত মো. কাওসার হোসেন (৪৬) জিয়ানগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

ভিডিও প্রকাশের পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মে মাস থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমদিকে মাদ্রাসার সুপারসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে ভিডিও প্রকাশ্যে এলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে কাওসার মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করা হয়।

 

তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা একাধিক অভিযোগের তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত দুটি ঘটনার সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সেই অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

 

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহিল মাহমুদ বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কাওসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারাই নেবে।

 

তিনি আরও জানান, তদন্ত চলমান থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।

 

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কাওসার আত্মগোপনে রয়েছেন। তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫১:০০ ● ২৭ বার পঠিত