সোমবার ● ১৮ মে ২০২৬
কোরবানিকে সামনে রেখে বাউফলের চরাঞ্চলে দেশি গরু পালনে ব্যস্ত খামারিরা
হোম » পটুয়াখালী » কোরবানিকে সামনে রেখে বাউফলের চরাঞ্চলে দেশি গরু পালনে ব্যস্ত খামারিরা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশে দেশি প্রজাতির গরু লালন-পালন করছেন স্থানীয় খামারিরা। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন এসব চরাঞ্চলে গরু মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। উন্মুক্ত চরে ঘাস খেয়ে বেড়ে ওঠা দেশি প্রজাতির গরুর চাহিদাও বেশি থাকায় লাভের আশায় অনেকেই এ পেশায় ঝুঁকছেন।
উপজেলায় প্রায় ৩০টি ছোট-বড় চর রয়েছে। এসব চরের বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের মাঠকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে দেশি গরু পালনের এক অনন্য পরিবেশ। প্রতিদিন ভোরে রাখালরা শত শত গরুর পাল চরাঞ্চলে নিয়ে যান। সারাদিন মুক্ত পরিবেশে প্রাকৃতিক ঘাস খেয়ে বেড়ায় গরুগুলো। কোনো ধরনের কৃত্রিম খাদ্য বা খামারে আটকে না থাকায় গরুগুলো সুস্থ ও সবল হয়ে ওঠে। সন্ধ্যার আগে আবার রাখালরা গরুগুলোকে গোয়ালে ফিরিয়ে আনেন।
স্থানীয় খামারিরা জানান, চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক ঘাস ও খোলামেলা পরিবেশে বেড়ে ওঠা দেশি গরুর মাংসের স্বাদ ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বেশি। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাটে এসব গরুর দামও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়। ফলে প্রতিবছরই চরাঞ্চলে গরু পালনের পরিমাণ বাড়ছে।
গরু ব্যবসায়ী ইসরাফিল বেপারি জানান, তিনি প্রতিবছর কোরবানির ৪-৫ মাস আগে ৮০ থেকে ১০০টি গরুর বাছুর কিনেন। সে গুলো চরাঞ্চলে ছেড়ে দিয়ে লালন পালন করেন। কোরবানীর আগে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর কালাইয়া গরু হাটে সে গুলো পর্যায়ক্রমে বিক্রি করেন। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা দেশি গরুর প্রতি ক্রেতাদের আলাদা আগ্রহ রয়েছে। দেশের দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা কালাইয়া গরু হাটে এসে চরাঞ্চলের গরু খুঁজে নেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কোরবানির জন্য বাউফল উপজেলায় গরু ২০ হাজার ৪৮২টি, মহিষ ৩২২টি, ছাগল ৪ হাজার ৮০৪টি এবং ভেড়া ৭৯১টি মিলে মোট ২৬ হাজার ৩৯৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর একটি বড় অংশ চরাঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশে লালন-পালন করা হয়েছে।
কালাইয়া হাটের ইজারাদার রাজীব হোসেন বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা বাড়লে চরাঞ্চলভিত্তিক দেশি গরু পালন আরও বিস্তৃত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১২:৫৮:৩৩ ● ২০ বার পঠিত
