বৃহস্পতিবার ● ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নেছারাবাদে সেই বিকলাঙ্গ নবজাতককে বুকে জড়িয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন মা

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে সেই বিকলাঙ্গ নবজাতককে বুকে জড়িয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন মা
বৃহস্পতিবার ● ৩০ এপ্রিল ২০২৬


 

নেছারাবাদে সেই বিকলাঙ্গ নবজাতককে বুকে জড়িয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন মা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের নেছারাবাদে জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী নবজাতক সন্তানকে ফেলে দিতে নিষ্ঠুর বাবার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে শেষ পর্যন্ত একাই শিশুকে বুকে জড়িয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন মা লিজা আক্তার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক মানবিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) নেছারাবাদ উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়ে যান তিনি। এর আগে দুই পা এবং একহাতবিহীন সন্তান জন্মের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

গত ২২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে লিজা আক্তার এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর দেখা যায়, শিশুটির দুই পা ও একটি হাত নেই। এ অবস্থায় শিশুটিকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান তার স্বামী আল আমিন। এমনকি শিশুটিকে ফেলে দিতে বা অন্যত্র দিয়ে আসারও নির্দেশ দেন তিনি।

 

তবে স্বামীর সেই সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন লিজা আক্তার। সন্তানের প্রতি মমতা ও ভালোবাসা থেকে তিনি শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে নিজের কাছেই রাখার সিদ্ধান্ত নেন। দম্পতির আরও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

 

হাসপাতালের বেডে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিজা আক্তার বলেন, ‘আমার সন্তান স্বাভাবিকভাবে জন্মায়নি বলে তার বাবা তাকে ফেলে দিতে বলেছে। কিন্তু আমি আমার সন্তানকে কখনো ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে না রাখলেও আমি সন্তানকে ছাড়ব না। আমি তাকে মানুষ করব।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যতদিন বেঁচে থাকব, কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমার অনুপস্থিতিতে আমার সন্তানের কী হবে- এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দেয়। কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়ালে সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা নিরাপদ হবে।’

 

অন্যদিকে মানবিক বিবেচনায় নবজাতক ও তার মায়ের চিকিৎসা ব্যয় সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, মানবিক কারণে সিজারিয়ানসহ সব খরচ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাসও কোনো ফি নেননি।

 

এদিকে, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিরাজ আফ্রিদি বিষয়টি জানার পর বুধবার (২৯ এপ্রিল) লিজা আক্তারের বাড়িতে যান এবং পরিবারটিকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৬:৪৭ ● ৩০ বার পঠিত