শুক্রবার ● ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ভাণ্ডারিয়ায় চুরির দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত এলাকাবাসীর
হোম » লিড নিউজ » ভাণ্ডারিয়ায় চুরির দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত এলাকাবাসীর

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে চুরি ও চুরির চেষ্টা বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
রাত নামলেই সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বাড়িঘরে ঢুকে মালামাল চুরি, বৈদ্যুতিক সার্ভিস লাইনের তার কেটে নেওয়া, টিউবওয়েল খুলে নেওয়া, নির্মাণাধীন ভবনের রড ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। পাশাপাশি কৃষকের গোয়ালঘর থেকেও গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন গবাদিপশু চুরি হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দোলোয়ার হোসেন বিপ্লবের বাসায় বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় বাসা তালাবদ্ধ ছিল। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা পেছনের দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে স্টিলের আলমারি থেকে প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।
এর আগে ১৪ এপ্রিল রাতে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক বাড়িতে চুরির চেষ্টা চালানো হয়। কয়েকটি ঘরের বৈদ্যুতিক সার্ভিস লাইনের তার কেটে ফেলে চোরেরা। তবে বাসিন্দারা টের পেয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। একই এলাকায় ইউনুস লাহারীর বাড়ি থেকে টিউবওয়েল খুলে নেওয়া এবং ইয়ারুন বেগমের বাসার তার চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সোহাগ বেপারীর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদের রড কেটে নেওয়ায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া ২ এপ্রিল উত্তর ভিটাবাড়িয়া গ্রামে কৃষক লোকমান সিকদারের গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।
এদিকে গত ১৭ ও ১৮ মার্চ পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৭টি চোরাই গরু উদ্ধার এবং এক নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হলেও চোরচক্রের তৎপরতা পুরোপুরি কমেনি। ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের একটি মন্দির থেকেও দানের টাকা ও পিতলের সামগ্রী চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ইউনিয়নের এক শিক্ষকের বাড়ি থেকেও নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সাগরকন্যাকে জানান, আগে বিচ্ছিন্নভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় প্রতি রাতেই কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন, ফলে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন ভাঙারি দোকান নজরদারিতে আনলে চোরচক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, চুরি প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। কোথাও চুরির ঘটনা ঘটলে দ্রুত থানায় জানাতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩২:০৩ ● ২৭ বার পঠিত
