শুক্রবার ● ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কলাপাড়ার নাওভাঙা খাল ইজারা ঘিরে সেচ সংকটের শঙ্কা, উদ্বেগে শতাধিক কৃষক পরিবার

হোম » লিড নিউজ » কলাপাড়ার নাওভাঙা খাল ইজারা ঘিরে সেচ সংকটের শঙ্কা, উদ্বেগে শতাধিক কৃষক পরিবার
শুক্রবার ● ১৭ এপ্রিল ২০২৬


 

কলাপাড়ার নাওভাঙা খাল ইজারা ঘিরে সেচ সংকটের শঙ্কা, উদ্বেগে শতাধিক কৃষক পরিবার

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জের নাওভাঙা খাল মৎস্য চাষের জন্য ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ৩০০ কৃষক পরিবারে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে খালের মিঠা পানির প্রবাহ ব্যাহত হয়ে প্রায় এক হাজার একর কৃষিজমির বোরো ধান ও সবজি আবাদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

 

স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দেড় থেকে দুইশ ফুট প্রস্থের নাওভাঙা খালটি নীলগঞ্জ এলাকার নাওভাঙা, গুটাবাছা, চাঁদপাড়া ও পাখিমারা গ্রামের আংশিক কৃষিজমির প্রধান সেচ উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খালটি নিজকাটা স্লুইস খালের সঙ্গে যুক্ত এবং পূর্ব প্রান্তে পাখিমারা খালে মিলিত হয়েছে। কুয়াকাটাগামী মহাসড়কের নিচে থাকা কালভার্টের মাধ্যমেও পানি চলাচল করে, যা পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

কৃষকদের দাবি, চলতি মৌসুমে অন্তত এক হাজার একর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে। পাশাপাশি করলা, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষেও একই উৎস ব্যবহার করা হচ্ছে। খালটি দীর্ঘদিন ধরে মিঠা পানির প্রধান ভরসা হলেও বর্তমানে সেচ ব্যবহারের কারণে অনেক স্থানে পানি কমে গেছে।

 

গুটাবাছা গ্রামের কৃষক মিলন তালুকদার বলেন, তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। খালের পানি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে সেচ কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে খালের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

অন্যদিকে কৃষক ইব্রাহিম খান ৬০ শতক জমিতে করলা চাষে এবং জাকির ফকির আট বিঘা জমিতে করলা চাষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। একইভাবে ইসমাইল মীর দুই বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছেন। তারা জানান, খালের পানি ছাড়া এসব আবাদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

 

কৃষক সুলতান গাজী বলেন, ‘খালটি ইজারা দেওয়া হলে আমরা সেচ তো দূরের কথা, পানি ব্যবহারও করতে পারব না। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনও ব্যাহত হবে।’ তিনি আরও আশঙ্কা করেন, খালে লোনা পানি প্রবেশ করলে তা আশপাশের খাল পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়ে পুরো কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটির প্রকৃত আয়তন প্রায় ২০০ একর এবং এটি এলাকার কৃষি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তারা আরও দাবি করেন, কৃষি ও পানি উন্নয়ন সংক্রান্ত দপ্তরের মতামত ছাড়াই খালটি ইজারা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

 

এ অবস্থায় কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নিজেদের অর্থায়নে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করেও খালটি কৃষি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখতে চান।

 

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক সাগরকন্যাকে বলেন, বিষয়টি কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে কৃষি স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং কৃষকদের ক্ষতি হয়- এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৭:২৫ ● ৩১ বার পঠিত