শুক্রবার ● ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কলাপাড়ায় কম দামে ওষুধ বিক্রি: ফার্মেসি বন্ধের অভিযোগে সমিতি নিয়ে বিতর্ক

হোম » লিড নিউজ » কলাপাড়ায় কম দামে ওষুধ বিক্রি: ফার্মেসি বন্ধের অভিযোগে সমিতি নিয়ে বিতর্ক
শুক্রবার ● ১৭ এপ্রিল ২০২৬


 

কলাপাড়ায় কম দামে ওষুধ বিক্রি: ফার্মেসি বন্ধের অভিযোগে সমিতি নিয়ে বিতর্ক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অসহায় এক ব্যক্তিকে কম দামে ওষুধ বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে ‘প্রগতি মেডিকেল হল’ নামের একটি পুরোনো ফার্মেসি বন্ধ রাখার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শুক্রবার সকাল থেকে সমিতির নেতাদের আল্টিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতে ফার্মেসিটি বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বলছেন, মানবিক কারণে সহায়তা করায় যদি শাস্তি পেতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী হবে না।

 

প্রগতি মেডিকেল হলের পরিচালক সুদীপ্ত পাল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভিক্ষুক আমার কাছে একটি ভিটামিন সিরাপ কিনতে আসে। তার কাছে নির্ধারিত মূল্য না থাকায় মানবিক কারণে ৩৫০ টাকা মূল্যের সিরাপটি আমি ১০০ টাকায় দেই।’ তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার পরই সমিতির নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং নির্দেশনা অমান্য করলে বড় অংকের জরিমানার হুমকি দেন।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলাপাড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, ‘সমিতি থেকে দোকান বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। প্রগতি মেডিকেল হল ভেজাল ওষুধ বিক্রির দায় স্বীকার করে নিজেরাই এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছে।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রায়ই কম দামে ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে।

 

এদিকে মেসার্স ফাতেমা মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার কাছ থেকেও প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে সমিতি। এমআরপি থেকে কম দামে ওষুধ বিক্রির অনুমতি চেয়ে বারবার অনুরোধ করলেও তারা রাজি হয়নি।’

 

আরও কয়েকজন ওষুধ বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন, সমিতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সমিতির সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি তাদের। এ অবস্থায় তারা সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. কাউসার হামিদ বলেন, ‘কোনো সমিতি বা সংগঠনের কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার এখতিয়ার নেই। একজন ব্যবসায়ী তার পণ্য কম দামে বা বিনামূল্যে দেবেন কিনা, সেটি তার নিজস্ব বিষয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৮:৪৪ ● ৬৪ বার পঠিত