শুক্রবার ● ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট পালন চাঁদা বন্ধ করায় বাউফলে সমিতি নেতাদের হত্যার হুমকি
হোম পেজ » লিড নিউজ » দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট পালন চাঁদা বন্ধ করায় বাউফলে সমিতি নেতাদের হত্যার হুমকি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া-দাসপাড়া এলাকায় চাঁদা দেওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ীদের সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার থানায় লিখিত অভিযোগের পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবারও হুমকির ঘটনা ঘটে। পরে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থলে যান। এসময় জড়িতদের আইনের আওতায় নেওয়ার আশ্বাস দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় ‘কালাইয়া-দাসপাড়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতির’ সভাপতি আলহাজ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দেয় স্থানীয় এক চাঁদাবাজ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পরদিন আজ শুক্রবার সকালে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডেকে নিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতার প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন প্যাদার ছেলে মো. শান্ত প্যাদাসহ কয়েকজন নিয়মিত ট্রলার ও কার্গো প্রতি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা করে চাঁদা নিতেন। কালাইয়া ধান হাট সেতু-সংলগ্ন পশ্চিম পাশে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৩২ জন ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। তারা ট্রলার ও কার্গোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথর এনে ব্যবসা করেন। প্রতিদিন সেখানে ১৫ থেকে ২০টি ট্রলার ও কার্গো ভিড়ে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় জরুরি সভায় চাঁদা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন সকালে চাঁদা নিতে এলে সভাপতির অপারগতা প্রকাশে তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, অভিযুক্তের কাছে সব সময় অস্ত্র থাকে- এ কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অভিযুক্ত শান্ত প্যাদার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার বাবা মো. সোহরাব হোসেন প্যাদা দাবি করেন, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকায় জলমহল কিনেছেন। সে কারণে তার ছেলে ট্রলার প্রতি ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন, যা চাঁদাবাজি নয়।
বাউফল উপজেলা ভূমি কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, কালাইয়া ও দাসপাড়া খাল জলমহল হিসেবে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন, সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে; দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৭:৩৮ ● ১৯ বার পঠিত
