বুধবার ● ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

চরফ্যাশনে স্কুল ঘর নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা

হোম পেজ » ভোলা » চরফ্যাশনে স্কুল ঘর নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা
বুধবার ● ১৪ জানুয়ারী ২০২৬


 

চরফ্যাশনে স্কুল ঘর নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা

সাগরকন্যাপ্রিতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)

ভোলার চরফ্যাশনে দানকৃত জমিতে ৩৫ বছর পর স্কুল ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রাণনাশের হুমকি দেবার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

ভুক্তভোগী ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মিয়া মুন্সির ছেলে মো. নুরনবী মিয়া (৫৫) বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দক্ষিণ আইচা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার বাড়ির পাশে প্রায় ৫০ শতক জমির ওয়ারিশসূত্রে মালিক তিনি। প্রায় ৩৫ বছর আগে এলাকার শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে জমিটি পূর্ব চর আইচা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দান করা হলেও দীর্ঘদিনেও সেখানে কোনো বিদ্যালয় স্থাপন হয়নি। পরবর্তীতে জমি ফেরত পেতে তিনি চরফ্যাশন আদালতে দেঃ নং ৮৬৩/২০২৫ ইং মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে উকিল কমিশন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জমিতে কোনো স্থাপনা নেই মর্মে রিপোর্ট প্রদান করে এবং বিবাদী পক্ষের ওপর রুল জারি করে সাত দিনের মধ্যে জবাব তলব করা হয়।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, আদালতের কার্যক্রমের বিষয়টি জানতে পেরে তার বড় ভাই আবুল কাশেম মিয়া, জান্নাতুল ফেরদাউস ও ডালিয়া রহমান রত্না দানকৃত জমিতে অবৈধভাবে স্কুল ঘর নির্মাণ করে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালান। এতে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নুরনবীর বাড়ির পাশের জমিতে টিন ও কাঠ দিয়ে একটি স্কুল ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন এবং স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কাজ বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা জমিতে আদালতের বিষয়টি চলমান থাকা সত্ত্বেও ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম মিয়া বলেন, জমিটি বিদ্যালয়ের নামে দান করা হয়েছিল- এটি সত্য। এখানে আগে একটি স্কুল ঘর ছিল, সেটি ভেঙে যাওয়ায় এখন সংস্কার করা হচ্ছে। তবে তিনি মারধর বা হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন। দক্ষিণ আইচা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই প্রতাপ চন্দ্র দাশ বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে এবং কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৬:৪৯ ● ৩৮ বার পঠিত