বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬
মোবাইল কোর্টের পরও অবৈধ ভবন নির্মাণ, রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
হোম » লিড নিউজ » মোবাইল কোর্টের পরও অবৈধ ভবন নির্মাণ, রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন ৭/১-এর আওতাধীন দনিয়া, দক্ষিণ দনিয়া, পাটেরবাগ, কদমতলী, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড় ও নামা শ্যামপুর এলাকায় অনুমোদনবহির্ভূত ভবন নির্মাণ ও নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পরও নির্মাণ বন্ধ হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকের যোগসাজশে কয়েকটি ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজউক জোন ৭/১-এর ইমারত পরিদর্শক মো. শিহাব উদ্দিন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জোন ৭/১-এর পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত কয়েকটি ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এরপর ইমারত পরিদর্শক শিহাব উদ্দিন সংশ্লিষ্ট ভবনমালিকদের আশ্বস্ত করেন, ভবিষ্যতে সেখানে আর মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে না। অর্থের বিনিময়ে অনুমোদন ও বিধিবিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালিত ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে মদিনাবাগ দক্ষিণ দনিয়া এলাকার তালুকদার কাসেমের ভবন, পাটেরবাগ ইতালি মার্কেটের পেছনে আলী জিন্নাহ গংয়ের ভবন, একই এলাকার হিরনের ভবন, ১০ তলার অনুমোদনের বিপরীতে ১১ তলা নির্মাণের অভিযোগ থাকা ‘মায়ের বাড়ি’, লিলি বিল্ডার্সের ১০ তলা ভবন, মায়ের বাড়ির পাশের আবুল হোসেনের তিনতলা ভবন এবং পাটেরবাগ এলাকার তুহিনের নয়তলা ভবন।
বিশেষ করে ‘মায়ের বাড়ি’ নামে পরিচিত ভবনটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ১০ তলার পরিবর্তে ১১ তলা নির্মাণ এবং রাস্তার জায়গা দখল করে ভবন সম্প্রসারণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণসংক্রান্ত নথি এবং মোবাইল কোর্টের অভিযানের পরও নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর সংশ্লিষ্ট ভবনমালিকদের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু এককালীন অর্থ নয়, জোন ৭/১-এর বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণ ও নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে নিয়মিত মাসিক অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালে রাজউকে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি জোন ৭/১-এর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দায়িত্বাধীন দনিয়া, কদমতলী, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, দক্ষিণ দনিয়া, পাটেরবাগ ও নামা শ্যামপুরের বিভিন্ন ভবন থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
শিহাব উদ্দিনের নিজ জেলা পাবনায় বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও সামনে এসেছে। সেখানে তাঁর দুইতলা বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একাধিক দোকানপাট, বিঘার পর বিঘা জমি এবং মাছের ঘের রয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্জনের সময়কাল, অর্থের উৎস এবং তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজ হলো অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করা এবং ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এমন দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা রাজউকের তদারকি ও জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
এ অবস্থায় ২৭ সেপ্টেম্বরের মোবাইল কোর্টের অভিযানসংক্রান্ত নথি, সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের বর্তমান অবস্থা, অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এবং শিহাব উদ্দিনের সম্পদের উৎস তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজউক জোন ৭/১-এর ইমারত পরিদর্শক মো. শিহাব উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজউক জোন ৭/১-এর অথরাইজড কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। ইমারত নির্মাণে বিধিবিধানের ব্যত্যয় রোধে রাজউক বদ্ধপরিকর। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুনরায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। ইমারত পরিদর্শক শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অবৈধ নির্মাণ বন্ধ এবং অনুমোদিত নকশা বাস্তবায়নে রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সময়: ৭:১৫:০৫ ● ৩৪ বার পঠিত
