মঙ্গলবার ● ২০ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনায় ৬৩ বছরেও মেলেনি বাবার পরিচয়, পৈতৃক স্বীকৃতির অপেক্ষায় বাবুল খান

হোম » বরগুনা » বরগুনায় ৬৩ বছরেও মেলেনি বাবার পরিচয়, পৈতৃক স্বীকৃতির অপেক্ষায় বাবুল খান
মঙ্গলবার ● ২০ অক্টোবর ২০২৬


 

বরগুনায় ৬৩ বছরেও মেলেনি বাবার পরিচয়, পৈতৃক স্বীকৃতির অপেক্ষায় বাবুল খান

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বয়স ৬৩ বছর। জন্মদাতা বাবার নাম জানেন, জানেন পৈতৃক বাড়ির ঠিকানাও। তবু পরিবারের স্বীকৃতি ও পিতৃপরিচয়ের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না বরগুনার বেতাগী উপজেলার বাবুল খান। শৈশবে মায়ের সঙ্গে জন্মভূমি ছেড়ে খুলনায় চলে যাওয়ার পর কেটে গেছে ছয় দশকের বেশি সময়। মায়ের মৃত্যুর পর বাবার পরিচয় খুঁজতে ফিরে এসেছেন পৈতৃক গ্রাম চান্দখালীতে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পরিচয়ের স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে উল্টো অপমানের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।

 

বাবুল খানের বাড়ি বেতাগী উপজেলার কাজীরাবাদ ইউনিয়নের চান্দখালী গ্রামে। তাঁর দাবি, তাঁর বাবা আমির খান। বাবার পরিচয় ও পারিবারিক স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় তিনি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেছেন। এরপরও নিজের পিতৃপরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি বলে জানান তিনি।

 

বাবুল খানের ভাষ্য, শৈশবে জীবিকার তাগিদে মায়ের সঙ্গে বরগুনা ছেড়ে খুলনায় চলে যেতে হয় তাঁকে। তখন বাবার পরিচয় বোঝার মতো বয়স হয়নি। কিছুটা বড় হওয়ার পর মায়ের কাছে বাবার পরিচয় জানতে চাইতেন। পরে জানতে পারেন, তাঁর বাবার নাম আমির খান এবং তাঁদের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজীরাবাদ ইউনিয়নের চান্দখালী গ্রামে।

 

মাত্র ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে মাকে হারান বাবুল। এরপর খুলনায় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর পর বাবার পরিচয় ও নিজের শিকড় খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়ে।

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১০ সালের দিকে বাবার পরিচয় ও পরিবারের সন্ধানে খুলনা থেকে চান্দখালীতে ফিরে আসেন বাবুল খান। তবে তাঁর অভিযোগ, পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে প্রত্যাশিত স্বীকৃতির পরিবর্তে লাঞ্ছনার শিকার হন তিনি। পরিবারের কয়েকজনের কাছ থেকে অপমানজনক কথাও শুনতে হয়েছে তাঁকে।

 

বাবুল খান বলেন, ‘আমার মা ছিলেন বাবা আমির খানের দ্বিতীয় স্ত্রী। বাবার প্রথম স্ত্রীর ঘরে একটি মেয়ে ছিল। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে সৎ বোনের অত্যাচার থেকে আমাকে রক্ষা করতে অন্য চাচাদের পরামর্শে মা ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। পরে বাবার পরিচয়ের জন্য দুইবার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেছি। তারপরও আমার সৎ বোনের সন্তানদের কাছ থেকে “জারজ সন্তান” বলে গালাগাল শুনতে হয়েছে।’

 

বাবুল খানের দাবির পক্ষে কথা বলেছেন তাঁর চাচাতো ভাই মোজাম্মেল খান। তিনি বলেন, বাবুল খান আমির খানের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। তাঁর জন্মের পর পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে পড়ে তাঁকে নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁর মা। দীর্ঘ বছর পর ফিরে এসেও বাবার পরিচয় পাচ্ছেন না তিনি। বাবুল যে আমির খানের ছেলে, তা তাঁরা জানেন। বাবার পরিচয় পাওয়া তাঁর অধিকার।

 

আরেক চাচাতো ভাই আবু খানও বাবুল খানের দাবিকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, বাবুল খান আমির খানের ছেলে। তাঁর জন্মের পর তাঁর মাকে সৎ মেয়ের অত্যাচারের মুখে পড়তে হয়েছিল। এ কারণে তাঁদের পরামর্শে একপর্যায়ে তাঁকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়। এখন বাবুল পৈতৃক ভিটায় ফিরে এসেছেন। কিন্তু বাবার পরিচয় থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বাবুল যেন বাবার পরিচয় ফিরে পান এবং পৈতৃক ভিটায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।

 

৬৩ বছর বয়সে বাবুল খানের চাওয়া, নিজের জন্মপরিচয়ের স্বীকৃতি পাওয়া এবং পরিবারের সদস্য হিসেবে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা। তাঁর দাবি ও স্বজনদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে বিষয়টির ন্যায়সংগত সমাধান চান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৪:২৬ ● ৪৪ বার পঠিত